নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর পদে ডেমোক্রেট প্রাইমারির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর সমর্থনে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে একটি ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান ও ভারতীয় কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
সাউথ এশিয়ান ফর ডেলগাডো ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং একজন খ্যাতনামা ব্যবসায়ী। আয়োজকদের দলে ছিলেন বেশ কয়েকজন পরিচিত কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও সংগঠক, যারা এ উদ্যোগকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পেশার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজকরা প্রার্থী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং কেন দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তারা জানান, নিউইয়র্ক স্টেটের রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে এবং এই কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ সমর্থন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সভায় বক্তারা বাংলাদেশের মানুষদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
ফান্ডরেইজিংয়ের মূল পর্বে প্রার্থী উপস্থিত হয়ে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি হোম কেয়ার ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরে চলা পিপিএল এর একচেটিয়া প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন এবং নির্বাচিত হলে এই মনোপলি ভেঙে ন্যায়সঙ্গত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, পিপিএল কীভাবে এককভাবে এই সুবিধা পেয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি হোম কেয়ার ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে এই খাতের উদ্যোক্তারা সমান সুযোগ পান।
এ প্রার্থী দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি যেভাবে সংগঠিতভাবে বিভিন্ন নেতৃত্বকে সমর্থন দিয়েছে তা প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জোহরান মামদানি যেভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিশালী সমর্থন পেয়েছেন, তিনিও তেমনি আস্থা ও সমর্থন পাবেন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি এই নির্বাচনী যাত্রায় তার পাশে থাকবে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে এক উষ্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করে। অতিথিরা প্রার্থীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কমিউনিটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আয়োজকরা জানান, দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
এ ফান্ডরেইজিংয়ের মাধ্যমে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি আবারও প্রমাণ করলো, তারা রাজনীতিতে সচেতন ভূমিকা রাখতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী অঙ্গনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায়।



