দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় ব্যাংকনোট বহনকারী একটি সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এল আলতোয় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং বিমানবন্দর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বলিভিয়ার উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সান্তা ক্রুজ শহর থেকে উড্ডয়ন করা সামরিক কার্গো উড়োজাহাজটির গন্তব্য ছিল এল আলতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবতরণের প্রস্তুতি চলাকালে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অবতরণের সময় এটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং কাছের একটি মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই এল আলতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজটি সি ১৩০ হারকিউলিস মডেলের। এটি বলিভিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য ব্যাংকনোট পরিবহন করছিল। তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওই ব্যাংকনোটগুলোর কোনো ক্রয়ক্ষমতা নেই। অর্থাৎ সেগুলো প্রচলিত বা বৈধ লেনদেনের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া ব্যাংকনোট সংগ্রহ বা ব্যবহার করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। জনগণকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার এবং উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর কিছু মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছড়িয়ে থাকা ব্যাংকনোট সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং সাধারণ মানুষকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়।
উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ার ঘটনায় শুধু বিমানবন্দর নয়, পার্শ্ববর্তী সড়ক যোগাযোগেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
এল আলতো শহরটি বলিভিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরকেন্দ্র এবং এখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ দুর্ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও প্রভাব ফেলেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করা হবে।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিচয় ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা অন্তত ১১ জন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সামরিক কার্গো উড়োজাহাজটির বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা বলিভিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।







Add comment