Bp News USA

প্রাইভেট ক্রেডিটে নতুন অস্থিরতা

ওয়াল স্ট্রিটে আবারও এক ধরনের অস্বচ্ছতার অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এবারের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু প্রাইভেট ক্রেডিট খাত, যা বৃহৎ ও তুলনামূলকভাবে অস্বচ্ছ ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ শিল্পের অংশ হিসেবে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে একটি বড় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে তাদের এক প্রাইভেট ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের নিয়মে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেওয়ায় বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রাইভেট ঋণ অর্থায়নে বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি তারা জানায়, নির্ধারিত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীরা আর অর্থ তুলে নিতে পারবেন না। পরিবর্তে, তারা সম্পদ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ অনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেবে। যদিও সম্পদ বিক্রির সময় প্রায় পুরো মূল্য আদায় করা সম্ভব হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে বাজার এখনো পুরোপুরি আস্থাহীন হয়ে পড়েনি, তবুও এই সিদ্ধান্ত অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে।

প্রাইভেট ক্রেডিট অবৈধ নয়, তবে এটি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে না। অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা প্রকাশ্য কোম্পানি নয়, ফলে শেয়ারহোল্ডার বা অনেক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি নজরদারি থেকে তারা বাইরে থাকে। ঋণের শর্তাবলি কেবল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

এই খাতে সাধারণত এমন উচ্চঝুঁকির ঋণ দেওয়া হয়, যা প্রচলিত ব্যাংকগুলো গ্রহণ করতে চায় না। তদুপরি, প্রচলিত ব্যাংকের মতো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সুরক্ষা কাঠামো গড়ার বাধ্যবাধকতাও এখানে নেই। ফলে পুরো খাতটি দীর্ঘদিন ধরেই আড়ালে থাকা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর ব্যাংকিং খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে ঋণ বিতরণ কমে যায়। সেই শূন্যতা পূরণে প্রাইভেট ফান্ডগুলো এগিয়ে আসে। এরপর থেকে এই বাজার দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রাইভেট ক্রেডিট বাজারের আকার দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে Federal Reserve Bank of New York জানিয়েছে।

সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রে থাকা প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। শেয়ারদর টানা দুই দিনে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও চাপ পড়ে, যার মধ্যে রয়েছে Ares Management, Apollo Global Management, KKR, Blackstone এবং TPG

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা বিনিয়োগকারীদের তারল্য বন্ধ করেনি, বরং মূলধন ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। এক সাক্ষাৎকারে সহ-সভাপতি ঋণ সম্পদ বিক্রিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ওয়াল স্ট্রিটকে আগেই সতর্ক করে তুলেছিল। গত শরতে গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ও সাবপ্রাইম অটো ঋণদাতা দুই প্রতিষ্ঠানের পরপর দেউলিয়া হওয়ার ঘটনায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিক্রির চাপ তৈরি হয়। জানা যায়, মূলধারার ব্যাংকগুলোও এসব সাবপ্রাইম ঋণগ্রহীতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। Moody’s জানায়, বড় মার্কিন ব্যাংকগুলো প্রাইভেট ক্রেডিট প্রদানকারীদের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে, যা খাতটির বিস্তারে সহায়ক হয়েছে। এমনকি JPMorgan Chase এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট ঋণের বিপরীতে বড় অঙ্কের ক্ষতির কথাও স্বীকার করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ উদ্বেগের কারণ হলো সংশ্লিষ্ট ফান্ডটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বদলে উচ্চ সম্পদশালী খুচরা বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি। সাধারণত পেনশন ফান্ড বা বীমা কোম্পানির মতো বড় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি নিতে পারে। কিন্তু খুচরা বিনিয়োগকারীরা একইভাবে আচরণ করেন না এবং আতঙ্ক ছড়ালে দ্রুত অর্থ তুলে নিতে চান।

বিশ্লেষকদের মতে, আধা-তারল্যপূর্ণ এমন পণ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযোগী নয়, যারা প্রয়োজনমতো দ্রুত অর্থ তুলতে চান। বরং এটি তাদের জন্য কার্যকর, যারা বহু বছর অর্থ আটকে রাখতে সক্ষম। ফলে প্রাইভেট সম্পদের তথাকথিত গণতন্ত্রীকরণেও অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রাইভেট ক্রেডিট খাতের স্বচ্ছতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াল স্ট্রিটে তাই উদ্বেগের ছায়া আবারও ঘনীভূত হচ্ছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed