Bp News USA

প্রফেশনাল জীবনে ইংরেজি দক্ষতা এখন অপরিহার্য

বর্তমান বৈশ্বিক কর্মবাজারে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা আর বাড়তি যোগ্যতা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই এটি মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, করপোরেট, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রায় প্রতিটি খাতেই ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা প্রফেশনাল অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মজীবনে সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে কার্যকর যোগাযোগের ওপর। বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে হলে ইংরেজিতে স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসীভাবে কথা বলা এবং লেখা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমেইল যোগাযোগ, রিপোর্ট প্রস্তুত, প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন কিংবা অনলাইন মিটিং পরিচালনা, সব ক্ষেত্রেই ইংরেজি দক্ষতা একজন পেশাজীবীকে এগিয়ে রাখে।

বিশ্বায়নের ফলে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করলেও তাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত। সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট রাইটিংসহ বিভিন্ন পেশায় বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভাষাগত দুর্বলতা থাকলে দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও ইংরেজির গুরুত্ব ব্যাপক। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম, গবেষণা প্রবন্ধ এবং অনলাইন কোর্সের অধিকাংশই ইংরেজিতে পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক জার্নাল, রিসার্চ পেপার এবং পেশাগত সার্টিফিকেশন পরীক্ষাও ইংরেজিনির্ভর। ফলে যারা ক্যারিয়ারে উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য ইংরেজিতে পারদর্শিতা একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করে।

করপোরেট খাতে নিয়োগদাতারা প্রায়ই এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেন, যারা ইংরেজিতে সাবলীলভাবে নিজেদের ভাব প্রকাশ করতে পারেন। চাকরির সাক্ষাৎকার, গ্রুপ ডিসকাশন কিংবা প্রেজেন্টেশন পর্বে ভাষাগত আত্মবিশ্বাস প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্বের প্রতিফলন ঘটায়। অনেক ক্ষেত্রে সমমানের দক্ষতার দুই প্রার্থীর মধ্যে ইংরেজিতে ভালো যোগাযোগক্ষমতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগের গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ। আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার, ভার্চুয়াল কনফারেন্স এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ইংরেজি জানা অপরিহার্য। পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নতুন সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং বৈশ্বিক প্রবণতা অনুসরণ করতেও এই ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইংরেজি শেখার অর্থ মাতৃভাষাকে অবমূল্যায়ন করা নয়। বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজস্ব দক্ষতা ও পরিচিতিকে তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবে ইংরেজিকে ব্যবহার করা উচিত। স্থানীয় ও বৈশ্বিক পরিসরের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে দ্বিভাষিক বা বহুভাষিক দক্ষতা দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপন করতে হলে কেবল প্রযুক্তিগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতা। ইংরেজিতে দক্ষতা সেই সক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করে। কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব, দল পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ সুবিধা দেয়।

সার্বিকভাবে বলা যায়, প্রফেশনাল জীবনে অগ্রসর হতে ইংরেজি শেখা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল একটি ভাষা নয়, বরং বৈশ্বিক সুযোগের দরজা উন্মুক্ত করার চাবিকাঠি।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed