Bp News USA

প্রতি পর্বেই নিখুঁত, সেরা অ্যান্থলজি সিরিজ

টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তৃত জগতে অ্যান্থলজি সিরিজ একেবারেই আলাদা এক অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। এসব সিরিজের মূল শক্তি হলো স্বাধীন গল্প কাঠামো। প্রতিটি পর্বে থাকে নতুন কাহিনি, ভিন্ন চরিত্র এবং আলাদা ভাবনার উপস্থাপন। এক পর্বের সঙ্গে আরেক পর্বের সরাসরি কোনো যোগসূত্র না থাকায় দর্শক প্রতিবারই পান নতুন অভিজ্ঞতা। অনেক সময় একটি পর্বই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মতো গভীর প্রভাব ফেলে। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই অ্যান্থলজি সিরিজগুলো দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

সম্প্রতি বিনোদনবিষয়ক মাধ্যম স্ক্রিন র‍্যান্ট সেরা অ্যান্থলজি সিরিজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তালিকায় থাকা প্রতিটি সিরিজের প্রতিটি পর্বই মাস্টারপিসের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। তাদের মতে, গল্প, অভিনয় এবং নির্মাণশৈলীর দিক থেকে এসব সিরিজের প্রতিটি পর্বই ১০ এর মধ্যে ১০ পাওয়ার দাবি রাখে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই আলোচিত সাতটি অ্যান্থলজি সিরিজ।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে দ্য বয়েজ ফ্র্যাঞ্চাইজির অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘দ্য বয়েজ প্রেজেন্টস: ডায়াবলিক্যাল’। এটি একটি ইউনিভার্সভিত্তিক অ্যান্থলজি, যেখানে প্রতিটি পর্বের অ্যানিমেশন স্টাইল আলাদা। সহিংসতা ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে এখানে সুপারহিরোদের অন্ধকার, নিষ্ঠুর এবং বিকৃত দিক তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষমতা যখন নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে, তখন তার পরিণতি কী হতে পারে, সেটাই প্রতিটি পর্বে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে। উত্তেজনা ও চমকে ভরা এই সিরিজটি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ অ্যান্থলজি সিরিজ ‘ইনসাইড নম্বর ৯’। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজের আইএমডিবি রেটিং ৮.৫। প্রতিটি পর্বে আলাদা গল্প, যেখানে ডার্ক কমেডি, সাসপেন্স ও অপ্রত্যাশিত টুইস্ট দর্শককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখে। মানুষের লোভ, ভয় এবং মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকার দিক এখানে সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে। রহস্যময় ‘৯’ সংখ্যাকে কেন্দ্র করেই প্রতিটি গল্প এগিয়ে যায়। এই সিরিজটি বিবিসিতে প্রচারিত হয়েছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা ‘আলফ্রেড হিচকক প্রেজেন্টস’ টেলিভিশনের ইতিহাসে এক ক্ল্যাসিক নাম। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এই অ্যান্থলজি সিরিজ আজও প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত। আইএমডিবি রেটিং ৮.৫। প্রতিটি পর্বে রহস্য, সাসপেন্স ও ডার্ক টুইস্টের মাধ্যমে দর্শককে চমকে দেওয়া হয়েছে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকের অনন্য উপস্থাপনা ও ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গি এই সিরিজকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি সিবিএস নেটওয়ার্কে দেখা যাচ্ছে।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নেটফ্লিক্সের অ্যান্থলজি সিরিজ ‘ইজি’। এই সিরিজে শিকাগো শহরের মানুষের প্রেম, সম্পর্ক, যৌনতা এবং আধুনিক জীবনের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি পর্বে আলাদা চরিত্র ও আলাদা গল্প থাকলেও, সব গল্পই সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ২০১৬ সাল থেকে তিন বছর ধরে এটি প্রচারিত হয় এবং বাস্তবধর্মী গল্প বলার জন্য দর্শকদের প্রশংসা পায়।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ ভৌতিক অ্যান্থলজি সিরিজ ‘হ্যামার হাউস অব হরর’। ১৯৮০ সালে প্রচারিত এই সিরিজ লোককথা ও ভৌতিক গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। প্রতিটি পর্বে আলাদা ভয়ের গল্প থাকলেও সবগুলোতেই ডার্ক থিম, অলৌকিক আতঙ্ক এবং মনস্তাত্ত্বিক ভয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। প্রাইম ভিডিওতে থাকা এই সিরিজের আইএমডিবি রেটিং ৭.৪।

ষষ্ঠ স্থানে থাকা ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ এইচবিওর অন্যতম আলোচিত অ্যান্থলজি ড্রামা। এটি স্যাটায়ারধর্মী সিরিজ, যেখানে বিলাসবহুল রিসোর্টে বেড়াতে আসা ধনী অতিথিদের জীবন, সম্পর্ক ও ভণ্ডামি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। প্রতিটি সিজনে নতুন লোকেশন ও নতুন গল্পের মাধ্যমে ক্ষমতা, শ্রেণি বিভাজন এবং মানবিক অন্ধকার দিক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে প্রচারিত এই সিরিজের রেটিং ৮।

তালিকার সপ্তম এবং শেষ স্থানে রয়েছে ক্ল্যাসিক টিভি সিরিজ ‘দ্য টোয়াইলাইট জোন’। ১৯৫৯ সালে প্রচার শুরু হওয়া এই সিরিজের আইএমডিবি রেটিং ৯। সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি, রহস্য ও সাসপেন্সের মিশ্রণে প্রতিটি পর্বে মানুষ, সমাজ ও নৈতিকতার অন্ধকার দিক ভিন্ন ভিন্ন আবহে তুলে ধরা হয়েছে। আজও এই সিরিজ নিয়ে আলোচনা হয় এবং এটি টুবি টিভিতে দেখা যাচ্ছে।

স্ক্রিন র‍্যান্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখুঁত গল্প বলার ধরন, অভিনয়ের গভীরতা এবং সৃজনশীল নির্মাণশৈলীর কারণেই এসব অ্যান্থলজি সিরিজের প্রতিটি পর্ব দর্শকদের বারবার দেখার আগ্রহ তৈরি করে। নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যে ভরপুর এই পর্বগুলোই অ্যান্থলজি সিরিজকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed