Bp News USA

পেশাজীবনে সুস্থ থাকতে ৫ ব্যায়াম

ব্যস্ত পেশাজীবনে দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন ধীরে ধীরে শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন অল্প সময় নিয়মিত ব্যায়াম করলেই কর্মক্ষমতা বাড়ে, মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে। পেশাগত জীবনে সুস্থ থাকতে পাঁচটি কার্যকর ব্যায়াম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, দ্রুত হাঁটা। এটি সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রকে সক্রিয় রাখে, রক্তসঞ্চালন উন্নত করে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরাতে সহায়তা করে। যারা সারাদিন অফিসে বসে কাজ করেন, তারা লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা বা দুপুরের বিরতিতে ছোট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। নিয়মিত হাঁটা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

দ্বিতীয়ত, স্ট্রেচিং বা শরীর টানটান করার ব্যায়াম। দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার ফলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ব্যথা তৈরি হয়। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে পাঁচ থেকে দশ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং করলে পেশির শক্তভাব কমে এবং শরীর নমনীয় থাকে। বিশেষ করে ঘাড় ঘোরানো, কাঁধ রোল করা এবং হালকা ফরওয়ার্ড বেন্ড কর্মক্ষেত্রেই সহজে করা যায়। এতে কর্মদক্ষতা বাড়ে এবং ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।

তৃতীয়ত, স্কোয়াট ও লাঞ্জের মতো বডিওয়েট ব্যায়াম। এসব ব্যায়াম করতে জিমের প্রয়োজন নেই। নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে পায়ের পেশি ও কোমর শক্তিশালী করা যায়। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দিলেই নিচের অংশের পেশিগুলো সক্রিয় থাকে, যা দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেয়। নিয়মিত স্কোয়াট করলে শরীরের ভারসাম্য উন্নত হয় এবং হাঁটুর শক্তি বাড়ে।

চতুর্থত, প্ল্যাঙ্ক। এটি একটি কার্যকর কোর এক্সারসাইজ। পেট, পিঠ ও কাঁধের পেশি শক্তিশালী করতে প্ল্যাঙ্ক অত্যন্ত উপকারী। শুরুতে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে, পরে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যায়। শক্তিশালী কোর পেশি কোমরব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখতে সহায়ক।

পঞ্চমত, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ। পেশাগত জীবনে মানসিক চাপ অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গভীর শ্বাস নেওয়া ও ধীরে ছাড়ার অনুশীলন স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। প্রতিদিন সকালে বা কাজের চাপের সময় কয়েক মিনিট মনোযোগ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে উদ্বেগ কমে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত হয়। এটি ঘুমের মানও বাড়ায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামকে আলাদা কোনো কাজ হিসেবে না দেখে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করে। পেশাজীবনে সাফল্য ধরে রাখতে সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ব্যস্ততার অজুহাত না দিয়ে প্রতিদিন অল্প সময় নিজের শরীরের জন্য বরাদ্দ করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার চাবিকাঠি।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed