Bp News USA

পেশাজীবনে প্রবেশের আগে যেসব বদভ্যাস ত্যাগ জরুরি

শিক্ষাজীবন শেষ করে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করা একজন তরুণের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এ সময় দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা প্রযুক্তিগত জ্ঞান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আচরণগত প্রস্তুতিও সমান জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু ব্যক্তিগত বদভ্যাসই সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারকে শুরুতেই বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কর্মজীবনে প্রবেশের আগে কয়েকটি নেতিবাচক অভ্যাস ত্যাগ করতে পারলে পেশাগত সাফল্যের পথ অনেকটাই সহজ হয়।

প্রথমত, সময়জ্ঞানহীনতা বা নিয়মিত দেরি করার অভ্যাস পেশাজীবনে বড় প্রতিবন্ধকতা। শিক্ষাজীবনে অনেক সময় দেরি করে আসা বা কাজ শেষ না করা বড় সমস্যা হিসেবে ধরা না পড়লেও কর্মক্ষেত্রে এটি অযোগ্যতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সময়মতো উপস্থিত হওয়া এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা পেশাদারিত্বের মৌলিক শর্ত।

দ্বিতীয়ত, দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা ত্যাগ করা জরুরি। অনেকেই ভুল হলে দায় স্বীকার না করে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে দায়বদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ভুল স্বীকার করে তা থেকে শেখার মানসিকতা একজন কর্মীকে দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়।

তৃতীয়ত, অগোছালো জীবনযাপন ও কাজের প্রতি অমনোযোগী মনোভাবও ক্ষতিকর। ব্যক্তিগত ডেস্ক, ফাইল বা ডিজিটাল ডকুমেন্ট সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। পেশাগত জীবনে সংগঠিত ও পরিকল্পিত থাকা দক্ষতারই অংশ।

চতুর্থত, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় করার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। কাজের সময় বারবার ফোন চেক করা বা অপ্রয়োজনীয় অনলাইন আলোচনায় যুক্ত হওয়া উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। প্রযুক্তি ব্যবহার অবশ্যই প্রয়োজনীয়, তবে তা যেন কাজের ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি।

পঞ্চমত, সমালোচনা গ্রহণে অনীহা পেশাগত উন্নয়নের পথে বড় বাধা। শিক্ষাজীবনে নম্বর বা প্রশংসা পাওয়ার অভ্যাস অনেককে আত্মতুষ্ট করে তোলে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ এবং তার ভিত্তিতে নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রতিক্রিয়া গ্রহণের সংস্কৃতি একজন কর্মীকে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ করে তোলে।

ষষ্ঠত, নেতিবাচক মনোভাব ও অভিযোগপ্রবণতা ত্যাগ করা প্রয়োজন। সহকর্মী, পরিবেশ বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অযথা অভিযোগ করা কর্মস্থলের পরিবেশকে প্রভাবিত করে। ইতিবাচক মনোভাব ও সমাধানমুখী চিন্তাধারা কর্মজীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

সপ্তমত, যোগাযোগ দক্ষতার ঘাটতি দূর করা জরুরি। অস্পষ্টভাবে কথা বলা, ইমেইলে অপ্রফেশনাল ভাষা ব্যবহার করা কিংবা আনুষ্ঠানিক আচরণে শৈথিল্য পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। পরিষ্কার ও ভদ্র যোগাযোগ একজন কর্মীর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

সবশেষে, শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা আত্মউন্নয়নে অনীহা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে দক্ষতা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি শেখার মানসিকতা না থাকলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

পেশাজীবনে সফলতা কেবল সনদ বা মেধার ওপর নির্ভর করে না; আচরণ, মানসিকতা এবং অভ্যাসও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর্মজীবনে প্রবেশের আগে নিজস্ব দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক প্রস্তুতি একজন তরুণকে শুধু ভালো কর্মীই নয়, একজন দায়িত্বশীল পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed