নিজেদের তৈরি স্মার্ট চশমায় চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে Meta। এ লক্ষ্যে ‘নেম ট্যাগ’ নামে একটি নতুন সুবিধা চালুর প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সংযুক্ত হলে ব্যবহারকারীর সামনে থাকা ব্যক্তির নাম ও পরিচয় অনলাইন তথ্যভান্ডার থেকে শনাক্ত করে সরাসরি জানাতে পারবে স্মার্ট চশমা। এর ফলে ভিড়ের মধ্যেও নির্দিষ্ট কাউকে দ্রুত খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হতে পারে।
তবে এই উদ্যোগ নতুন করে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রযুক্তিটি চালু হলে শুধু ব্যবহারকারীর নয়, আশপাশের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ কারণেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সম্পর্কিত সম্ভাব্য ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে গত বছর থেকেই অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্মার্ট চশমায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীর মাধ্যমে তথ্য সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও, চেহারা শনাক্তকরণ সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য আয়োজিত একটি সম্মেলনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘নেম ট্যাগ’ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা ছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সীমিত পরিসরে প্রযুক্তিটি উন্মুক্ত করার পর সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তা চালুর কথা বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
এর আগে ২০২১ সালে রেব্যান ব্র্যান্ডের স্মার্ট চশমার প্রথম সংস্করণে চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কারণে পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হয়। ফলে প্রযুক্তিটি তখন আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে ছবি তোলা, গান শোনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান করা যায়। ব্যবহারকারীরা Facebook ও WhatsApp–এ সরাসরি বার্তা পাঠানো ও গ্রহণের সুবিধা পান। এসব বিদ্যমান ফিচারের সঙ্গে যদি চেহারা শনাক্তকরণ যুক্ত হয়, তবে স্মার্ট চশমার ব্যবহারিক পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আবারও এই প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের নীতিগত ও কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের মধ্যেই নতুন করে এ পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তবে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি একদিকে ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, অন্যদিকে অনিচ্ছাকৃত নজরদারি বা তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ফলে প্রযুক্তিটি চালুর আগে নীতিমালা, ব্যবহারবিধি এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সুস্পষ্ট করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।







Add comment