পছন্দমতো নিজস্ব ভার্চ্যুয়াল জগৎ তৈরি করার সুযোগ দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে গুগল। ‘প্রজেক্ট জিনি’ নামের এই অ্যাপ ব্যবহার করে যে কেউ সহজেই নিজের কল্পনার জগৎকে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ভার্চ্যুয়াল পরিবেশে রূপ দিতে পারবেন। শুধু দৃশ্য দেখার মধ্যেই এই অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যবহারকারীরা সেই ভার্চ্যুয়াল জগতে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও পাবেন।
গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রজেক্ট জিনি একটি প্রটোটাইপ ওয়েব অ্যাপ। এটি জিনি ৩, ন্যানো বানানা প্রো এবং জেমিনির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে খুব সাধারণ নির্দেশনার মাধ্যমেই সম্পূর্ণ একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ভার্চ্যুয়াল জগৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। নিজের পোস্টে তিনি প্রজেক্ট জিনির সক্ষমতা তুলে ধরতে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, অ্যাপটির মাধ্যমে তৈরি একটি স্পেস স্টেশনের ভেতরে একজন নভোচারী ঘুরে বেড়াচ্ছেন, চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভার্চ্যুয়াল কাঠামোর সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন করছেন।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্ট জিনিতে ভার্চ্যুয়াল জগৎ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় ওয়ার্ল্ড স্কেচিং ধাপ দিয়ে। এই ধাপে ব্যবহারকারীকে লেখা বা ছবি ব্যবহার করে নিজের কল্পনার ধারণা দিতে হয়। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে থেকেই একটি পরিবেশ, চরিত্র ও প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করে নেয়। ফলে খুব বেশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াও একজন সাধারণ ব্যবহারকারী তার চিন্তাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ভার্চ্যুয়াল জগতে রূপ দিতে পারেন। প্রয়োজনে কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর ছবি ইনপুট হিসেবেও ব্যবহার করা যায়, যাতে এআই সেই ছবিকে ভিত্তি করে ভার্চ্যুয়াল কাঠামো বা পরিবেশ নির্মাণ করতে পারে।
একবার ভার্চ্যুয়াল জগৎ তৈরি হয়ে গেলে ব্যবহারকারীরা সেটিকে বিভিন্ন দিক থেকে ঘুরে দেখতে পারেন। ক্যামেরার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে পরিবেশের ভেতর চলাফেরা করা সম্ভব হয়। শুধু নিজের তৈরি জগৎ নয়, প্ল্যাটফর্মে থাকা অন্য ব্যবহারকারীদের তৈরি ভার্চ্যুয়াল জগৎও দেখা যায়। প্রয়োজনে সেগুলো নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন বা পুনর্গঠন করার সুযোগও রয়েছে। এতে করে একই মূল কাঠামোর ওপর ভিন্ন ভিন্ন কল্পনা ও সৃজনশীলতা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়, যা ভার্চ্যুয়াল জগতের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
তবে প্রজেক্ট জিনির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বর্তমানে তৈরি করা ভার্চ্যুয়াল জগৎ সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়। এর বেশি সময় ধরে একই জগতে অবস্থান করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া দৃশ্য পুরোপুরি বাস্তবসম্মত মনে নাও হতে পারে। আলো, ছায়া কিংবা পরিবেশের কিছু উপাদান এখনো উন্নতির পর্যায়ে রয়েছে। গুগল নিজেও এটিকে একটি প্রটোটাইপ অ্যাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও বিস্তৃত আকার পেতে পারে।
প্রাথমিকভাবে প্রজেক্ট জিনি অ্যাপটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী গুগলের এআই আলট্রা ব্যবহারকারীরাই আপাতত এই অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। পরীক্ষামূলক এই পর্যায়ে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে অ্যাপটির সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ব্যক্তিগত ভার্চ্যুয়াল জগৎ তৈরির এই উদ্যোগ প্রযুক্তি জগতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।




Add comment