নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন একজন বাংলাদেশি আমেরিকান কর্মকর্তা, যা প্রবাসী কমিউনিটির জন্য গর্বের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে লোয়ার ম্যানহাটনের ওয়ান পুলিশ প্লাজায় আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেওয়া হয়। তিনি এর আগে ডিটেকটিভ স্কোয়াডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিশ্বের অন্যতম সেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে ক্যারিয়ার শুরু হয় অফিসার পদ থেকে। পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে তিনি প্রথমে অফিসার এবং পরে সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত সম্মানজনক ডিটেকটিভ স্কোয়াডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকেই ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
১৯৯৯ সালে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। সে সময় বিভাগে বাংলাদেশি আমেরিকান সদস্যের সংখ্যা ছিল মাত্র তিন থেকে চারজন। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে অল্প সময়েই তিনি সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন এবং একজন সজ্জন ও মিষ্টভাষী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, যিনি ডিটেকটিভ পদে কর্মরত, জানান যে নতুন ক্যাপ্টেন সবসময় চেয়েছেন আরও বেশি বাংলাদেশি আমেরিকান যেন পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি ও কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি মুসলিম অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের করেসপন্ডিং সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশি আমেরিকান কর্মকর্তারা তাঁদের পেশাদারিত্ব, কমিটমেন্ট ও দক্ষতার মাধ্যমে পুলিশ বিভাগে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বিভাগে তাঁদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে নতুন প্রজন্মের ওপরও। এই পেশায় যোগদানের পথ অনেকটাই উন্মুক্ত ও সহজ হয়ে ওঠে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য।
নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন বলেন, তাঁর এই অর্জন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে পুলিশ বিভাগে কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণরা এগিয়ে এলে নিউইয়র্ককে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং বসবাসের উপযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের হবিগঞ্জ জেলার সন্তান এই কর্মকর্তা বর্তমানে পরিবারসহ নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে বসবাস করছেন। তিনি নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির অধীন জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের নির্বাহী পদগুলোর মধ্যে ক্যাপ্টেন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই পদ থেকেই রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভাগের শীর্ষপদে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশে চারজন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেন দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে একজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন থেকে ডেপুটি ইন্সপেক্টর এবং পরে ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন। এছাড়া আরেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন।
সংগঠনের মিডিয়া লিয়াজোঁ ও এক সার্জেন্ট জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ইন্সপেক্টর, ডেপুটি ইন্সপেক্টর ও ক্যাপ্টেন ছাড়াও প্রায় ২০ জন লেফটেন্যান্ট, ৯০ জন সার্জেন্ট, ১৫ জন ডিটেকটিভ এবং চার শতাধিক অফিসার কর্মরত আছেন। পাশাপাশি সহস্রাধিক বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্ট দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক বিভাগের নির্বাহী পদ ম্যানেজার হিসেবেও কয়েকজন বাংলাদেশি কাজ করছেন।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ভাইস প্রেসিডেন্ট, দ্বিতীয় সহসভাপতি ও সেক্রেটারি নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অর্জনে সংগঠনের প্রতিটি সদস্য উচ্ছ্বসিত। তাঁদের মতে, এ সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো কমিউনিটির জন্য গৌরবের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।







Add comment