নিউইয়র্কে আয়োজিত হলো কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠান। গত ২৬ নভেম্বর রাতের এ আয়োজনে লাগোর্ডিয়া এয়ারপোর্টের কাছে ডাবলট্রি বাই হিলটনের বলরুম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি। সঞ্চালনায় ছিলেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। নতুন কমিটির কর্মকর্তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার যিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টিবোর্ড সদস্য, সিনিয়র সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি ও গ্র্যান্ড স্পন্সর, ফোবানার এক্সিকিউটিভ জয়েন্ট সেক্রেটারি, বৃহত্তর কুমিল্লা সোসাইটির নবনির্বাচিত সভাপতি, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি, আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা এবং নবনির্বাচিত কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরাও যোগ দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয় এবং বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে মূল পর্ব শুরু হয়।
কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির ২০২৬ থেকে ২০২৭ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত ১৯ সদস্যের কার্যকরী কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে অভিষেক অনুষ্ঠানটি পূর্ণতা পায়। নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি, সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সমাজ কল্যাণ ও আপ্যায়ন সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং কার্যকরী সদস্যবৃন্দ।
শপথ গ্রহণের পর নবনির্বাচিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক তাদের বক্তব্যে কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি এবং কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সভাপতি সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সংগঠনের জন্য কবরস্থান প্লট ক্রয়ের তহবিল সংগ্রহ, বার্ষিক ইফতার আয়োজন, বার্ষিক বনভোজন, বাংলাদেশ গেমসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন এবং ২০২৬ সালের ফোবানা কনভেনশন আয়োজনের পরিকল্পনা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ সোসাইটির উন্নয়নধারাকে অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অন্যান্য বক্তারাও নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যার সঞ্চালনা করেন সংগঠনের এক কর্মকর্তা। প্রবাসের জনপ্রিয় কয়েকজন শিল্পী পরিবেশন করেন একের পর এক গান যা দর্শকদের গভীর রাত পর্যন্ত মাতিয়ে রাখে। অনেকে সুরের তালে নেচে উল্লাস প্রকাশ করে উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেন।



