Bp News USA

নাভালনির মৃত্যুতে ‘ব্যাঙের বিষ’, অভিযোগ ইউরোপের

রাশিয়ার বিরোধী নেতা Alexei Navalnyকে একধরনের বিষাক্ত ব্যাঙের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ। গত শনিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ অভিযোগ আনা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বন্দী অবস্থায় তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্রেমলিনকেই দায়ী করা হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin–এর কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই বিরোধী নেতা ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সাইবেরিয়ার একটি কারাগারের নির্জন কক্ষে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৪৭ বছর। সে সময় রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন। তবে তার পরিবার ও সমর্থকেরা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন যে কারাগারেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নাভালনির দেহ থেকে সংগ্রহ করা উপাদানের নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করেছে। জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত Munich Security Conference–এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্দী অবস্থায় এ ধরনের বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ কেবল রুশ সরকারেরই ছিল।

রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা TASS এ অভিযোগকে ‘তথ্যভিত্তিক প্রচারণা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। মস্কোর দাবি, এসব বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, নাভালনির দেহে ‘এপিবাটিডিন’ নামের যে বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, সেটি কীভাবে সেখানে এলো—তার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা রাশিয়া দিতে পারেনি। সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও চার ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতিতে একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে। সম্মেলন চলাকালে তিনি নাভালনির স্ত্রী Yulia Navalnaya–র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া নাভালনিকে একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখত। তার দাবি, এ ধরনের বিরল ও প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহার করে রুশ সরকার রাজনৈতিক বিরোধিতাকে কতটা ভয় পায় এবং তাদের হাতে কী ধরনের মারাত্মক উপায় রয়েছে, সেটিই স্পষ্ট হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বন্দী অবস্থায় নাভালনির মৃত্যুর জন্য রাশিয়াকেই দায়ী করা হচ্ছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, এপিবাটিডিন সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার বন্য পরিবেশে বসবাসকারী বিষাক্ত ডার্ট ফ্রগের শরীরে পাওয়া যায়। খাঁচায় বন্দী অবস্থায় এ ব্যাঙ এ বিষ উৎপাদন করে না এবং রাশিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশেও এ উপাদান পাওয়া যায় না।

এর আগে ২০২০ সালেও নাভালনির ওপর ‘নোভিচক’ নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিকভাবে অভিযোগ ওঠে। Novichok নামে পরিচিত এ রাসায়নিক বিষ রুশ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বলে বলা হয়, যা ধীরে ধীরে মানবদেহে প্রাণঘাতী প্রভাব ফেলে। ওই ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য তিনি জার্মানিতে যান। পরে রাশিয়ায় ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইউরোপীয় দেশগুলোর দাবি অনুযায়ী, নাভালনির মৃত্যুর পেছনে ব্যবহৃত ‘এপিবাটিডিন’ অত্যন্ত বিরল ও শক্তিশালী স্নায়ুবিষ। এটি প্রথম দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির বন্য ব্যাঙের শরীরে শনাক্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যথানাশক হিসেবে কিংবা ফুসফুসের প্রদাহজনিত তীব্র ব্যথা উপশমে এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও এর উচ্চমাত্রার বিষাক্ততার কারণে চিকিৎসাক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টক্সিকোলজি বিশেষজ্ঞ জিল জনসন বলেন, এপিবাটিডিন মরফিনের তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষ পেশির খিঁচুনি ও পক্ষাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে ধীর করে দিতে পারে, শ্বাসযন্ত্র বিকল করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম। তিনি এটিকে অত্যন্ত বিরল স্নায়ুবিষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, নির্দিষ্ট এক বন্য ব্যাঙের প্রজাতিতে খুব অল্প পরিমাণে এ বিষ পাওয়া যায় এবং সেটিও তখনই উৎপন্ন হয়, যখন ব্যাঙটি বিশেষ ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে।

সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে মস্কো শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এ দাবিকে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা বলে উল্লেখ করছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed