বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে নারী শিল্পীদের সাফল্য কেবল জনপ্রিয়তা বা পুরস্কারে সীমাবদ্ধ নেই, আর্থিক দিক থেকেও তাঁরা এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছেন। আন্তর্জাতিক ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ১০ নারী গায়িকার তালিকায় রয়েছে চমকপ্রদ সব নাম ও বিপুল সম্পদের পরিমাণ। সংগীত, অভিনয়, কনসার্ট, ব্যবসা ও ব্র্যান্ড উদ্যোগ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁদের এই আর্থিক সাম্রাজ্য।
তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন আরিয়ানা গ্রান্দে। গানের পাশাপাশি অভিনয়েও তিনি সফল উপস্থিতি দেখিয়েছেন। ‘উইকেড’ সিনেমার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এবং পার্শ্বচরিত্রে অস্কার মনোনয়নও পান। ছবিটির সিক্যুয়েলও গত বছর সন্তোষজনক ব্যবসা করেছে। অ্যালবাম বিক্রি, কনসার্ট ও অভিনয় থেকে আয় মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২৪০ মিলিয়ন ডলার।
নবম স্থানে থাকা কেটি পেরি সংগীতের পাশাপাশি টেলিভিশন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। অ্যালবাম বিক্রি, কনসার্ট ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে তাঁর বড় অংশের আয় এসেছে। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।
অষ্টম স্থানে আছেন ডলি পার্টন। সংগীতজগতে দীর্ঘদিনের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি প্রশংসিত। শিশুদের জন্য ২০ কোটির বেশি বই বিতরণ করেছেন এবং কোভিড ১৯ টিকা গবেষণায় অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। সংগীত ও সেবামূলক কাজ মিলিয়ে তাঁর সম্পদ এখন ৪৫০ মিলিয়ন ডলার।
সপ্তম স্থানে থাকা বারবারা স্ট্রাইস্যান্ড বিনোদন জগতের এক অনন্য নাম। তিনি প্রথম পারফরমার হিসেবে এমি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি চারটি পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর গান ও চলচ্চিত্র সমানভাবে জনপ্রিয়। কনসার্টের টিকিট মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়। ‘মাই নেম ইজ বারবারা’ বইয়ের লেখক এই শিল্পীর মোট সম্পদ ৪৬০ মিলিয়ন ডলার।
ষষ্ঠ স্থানে সেলিন ডিওন। অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মঞ্চে কম দেখা গেলেও লাস ভেগাসে দীর্ঘ সময়ের রেসিডেন্সি শো তাঁর আয়ের বড় উৎস ছিল। কানাডীয় এই গায়িকার মোট সম্পদ বর্তমানে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার।
পঞ্চম স্থানে আছেন ম্যাডোনা, যিনি ‘কুইন অব পপ’ হিসেবে পরিচিত। আশি ও নব্বইয়ের দশকে পপ সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনেন তিনি। সংগীতের পাশাপাশি ফ্যাশন ও মঞ্চ পরিবেশনাতেও প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮৫০ মিলিয়ন ডলার।
চতুর্থ স্থানে থাকা বিয়ন্সে ২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবাম দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। গ্র্যামি পুরস্কারেও নতুন রেকর্ড গড়েন। সংগীতের বাইরে বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন। তাঁর মোট সম্পদ ১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের শেষে ফোর্বস জানায়, বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করা সর্বশেষ সংগীত তারকা তিনি।
তৃতীয় স্থানে সেলেনা গোমেজ। গান, অভিনয়, প্রযোজনা, প্রসাধনসামগ্রী ও পোশাক ব্যবসা মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ে বেশি মনোযোগী এই শিল্পী অস্কার মনোনয়নও পেয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত টিভি সিরিজ ও তথ্যচিত্র প্রযোজনা করছেন।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রিয়ানা। বার্বাডোজের এই গায়িকা ও অভিনেত্রী ব্যবসায়িক সাফল্যেও অনন্য। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, নারী শিল্পীদের মধ্যে এই শতকে তাঁর রেকর্ড বিক্রি সবচেয়ে বেশি। ডিজিটাল সিঙ্গেলের ক্ষেত্রেও তিনি সর্বাধিক সার্টিফায়েড নারী শিল্পী। তাঁর মেকআপ ব্র্যান্ড বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদ এখন ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরবেন।
তালিকার শীর্ষে আছেন টেলর সুইফট। সংগীতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও তিনি বিস্ময়কর অবস্থানে। শিল্পীদের অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সরব এই তারকা নিজের পুরোনো অ্যালবামের স্বত্ব ফিরে পেতে গান নতুন করে রেকর্ড করেন। পাশাপাশি নতুন গান প্রকাশ ও বিশ্বব্যাপী ইরাস ট্যুরের ১৪৯টি শো সম্পন্ন করেন। পাঁচ মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই ট্যুর নতুন রেকর্ড গড়েছে। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পীতে পরিণত করেছে।







Add comment