বিশ্বজুড়ে শত কোটিপতির সংখ্যা এখন তিন হাজারের বেশি। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শত কোটিপতিদের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। সম্পদের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরলেও এর বণ্টন মোটেই সমতাভিত্তিক নয়।
বর্তমানে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি শত কোটিপতি বসবাস করেন মাত্র তিনটি দেশে। ২০২৫ সালে ৭৮টি দেশ ও অঞ্চলে অন্তত একজন করে শত কোটিপতি ছিলেন। তবে কিছু দেশে এই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। নিচে তুলে ধরা হলো সেই ১০টি দেশের চিত্র, যেখানে সবচেয়ে বেশি শত কোটিপতির বসবাস।
দশম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। ২০২৫ সালে দেশটিতে শত কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৫৫ জন। তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩৮ বিলিয়ন ডলার। দেশটির শীর্ষ ধনীর সম্পদ প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে।
নবম স্থানে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলেই শত কোটিপতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালে সেখানে ৫৬ জন শত কোটিপতি ছিলেন। যদিও আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৯ জন। বর্তমানে দেশটির শীর্ষ ধনীর সম্পদ সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
অষ্টম স্থানে রয়েছে হংকং, যা চীনের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে ৬৬ জন শত কোটিপতি বসবাস করেন। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৩৩৫ বিলিয়ন ডলার। আবাসন খাতের এক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী বর্তমানে এখানকার শীর্ষ ধনী, যার সম্পদ ৩৯ বিলিয়ন ডলার।
সপ্তম স্থানে ইতালি। ২০২৫ সালে দেশটিতে শত কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৭৪ জন এবং তাঁদের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বখ্যাত এক চকলেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বর্তমানে ইতালির শীর্ষ ধনী, যার সম্পদ ৩৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
ষষ্ঠ স্থানে কানাডা। দেশটিতে ২০২৫ সালে ৭৬ জন শত কোটিপতি ছিলেন, যাঁদের মোট সম্পদ ৩৫৯ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৭ জন। বর্তমানে কানাডার শীর্ষ ধনীর সম্পদ প্রায় ৬৩ বিলিয়ন ডলার। তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা।
পঞ্চম স্থানে রাশিয়া। চলমান যুদ্ধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটিতে শত কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে সেখানে ১৪০ জন শত কোটিপতি ছিলেন, যা আগের বছরের ১২০ জন থেকে বেশি। তাঁদের মোট সম্পদ ৫৮০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির শীর্ষ ধনী জ্বালানি খাতের একজন ব্যবসায়ী, যার সম্পদ ২৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
চতুর্থ স্থানে জার্মানি। ২০২৫ সালে দেশটিতে শত কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭১ জনে, যা আগের বছরের ১৩২ জন থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তাঁদের মোট সম্পদ ৭৯৩ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছরে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। বর্তমানে সুপারমার্কেট খাতের এক ব্যবসায়ী ৪১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে দেশের শীর্ষ ধনী।
তৃতীয় স্থানে ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশে ২০২৫ সালে শত কোটিপতির সংখ্যা ছিল ২০৫ জন, যা আগের বছরের ২০০ জন থেকে বেশি। তবে তাঁদের মোট সম্পদ কমেছে। ২০২৫ সালে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৯৪১ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে আগের বছর ছিল ৯৫৪ বিলিয়ন। শেয়ারবাজারে নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর দরপতনের কারণে শীর্ষ দুই ধনীর সম্পদ ২০ বিলিয়নের বেশি কমেছে। বর্তমানে দেশের শীর্ষ ধনীর সম্পদ ৯২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
দ্বিতীয় স্থানে চীন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশে ২০২৫ সালে ৪৭০ জন শত কোটিপতি ছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদ প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৪০৬ জন, আর ২০২৩ সালে ছিল ৪৯৫ জন। আবাসন বাজার ও শেয়ারবাজারে ধসের পর ধনীরা প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার হারান। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতের এক সহপ্রতিষ্ঠাতা দেশের শীর্ষ ধনী, যার সম্পদ ৬৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শত কোটিপতি এই দেশের নাগরিক। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৯০২ জন শত কোটিপতি ছিলেন, যাঁদের মোট সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি ডলার। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮১৩ জন। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী এই দেশের একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, যার সম্পদ ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই। তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেন। সম্পদের বিচারে তালিকার ওপরের দিকে থাকা আরও তিন মার্কিন প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বও রয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীভবন অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। সংখ্যার দিক থেকে ধনকুবেরের তালিকা যেমন দীর্ঘ হচ্ছে, তেমনি তাঁদের সম্পদের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করছে।







Add comment