বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে জিমেইল। অফিসের কাজ, অনলাইন সেবায় নিবন্ধন কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ব্যাপক। তবে প্রয়োজনীয় বার্তার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের ইনবক্সে প্রতিনিয়ত জমা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অপ্রয়োজনীয় ই–মেইল, যা অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্প্যাম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ই–মেইল শুধু ইনবক্সকে ভারী করে না, বরং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তোলে। এসব ই–মেইলের মধ্যে থাকে বিভিন্ন প্রচারণামূলক বার্তা, সন্দেহজনক লিংক এবং কখনো কখনো সাইবার আক্রমণের অংশ হিসেবে পাঠানো মেইল। তাই অনলাইনে নিরাপদ থাকতে স্প্যাম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানা জরুরি।
প্রথমেই স্প্যাম ই–মেইল শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ই–মেইল অপ্রাসঙ্গিক বা সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। এতে করে ওই ধরনের বার্তাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনবক্স থেকে সরিয়ে আলাদা ফোল্ডারে চলে যায়। ব্যবহারকারীরা কম্পিউটার থেকে এক বা একাধিক ই–মেইল নির্বাচন করে ‘রিপোর্ট স্প্যাম’ অপশনে ক্লিকের মাধ্যমে এটি করতে পারেন। এর ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ই–মেইল ইনবক্সে আসার সম্ভাবনাও কমে যায়।
অনেক সময় দেখা যায়, পরিচিত কোনো ব্যক্তির ই–মেইল ঠিকানা থেকেই অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক বার্তা আসছে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনা ঘটে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে। এমন পরিস্থিতিতে সেই মেইলের জবাব না দেওয়াই নিরাপদ। ব্যবহারকারীরা চাইলে জিমেইলের স্প্যাম সতর্কবার্তায় থাকা ‘মেসেজ লুকস সাসপিশাস’ অপশন ব্যবহার করে বিষয়টি রিপোর্ট করতে পারেন। এতে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।
অবাঞ্ছিত প্রেরকদের নিয়ন্ত্রণ করাও নিরাপদ ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট কোনো প্রেরকের কাছ থেকে যদি বারবার বিরক্তিকর বা অপ্রয়োজনীয় ই–মেইল আসে, তবে তাকে ব্লক করা যেতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ই–মেইলটি খুলে ডান পাশে থাকা তিনটি ডট মেনুতে ক্লিক করে ‘ব্লক’ অপশন নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে ওই প্রেরকের কোনো ই–মেইল সরাসরি ইনবক্সে পৌঁছাবে না।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মেইলবম্বিং নামের একধরনের সাইবার আক্রমণও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে হঠাৎ করে ব্যবহারকারীর ইনবক্সে বিপুল সংখ্যক ই–মেইল পাঠিয়ে সেটিকে প্রায় অকার্যকর করে দেওয়া হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
জিমেইল সাধারণত এ ধরনের অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করতে সক্ষম। কোনো অ্যাকাউন্টে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ সাবস্ক্রিপশন বা প্রচারণামূলক ই–মেইল আসতে শুরু করলে সেটিকে মেইলবম্বিংয়ের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে জিমেইল ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা দিয়ে সচেতন করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জিমেইল ব্যবহারে সচেতনতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্প্যাম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ই–মেইলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিয়মিত স্প্যাম শনাক্ত করা, সন্দেহজনক বার্তা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেরক ব্লক করা—এই অভ্যাসগুলোই ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।





Add comment