Bp News USA

ছোট অভ্যাসেই স্মৃতিশক্তিতে বড় পরিবর্তন

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিংবা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা। প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রাখা হয়েছে তা মনে না পড়া, পরিচিত কারও নাম হঠাৎ ভুলে যাওয়া কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে না পাওয়া আমাদের অনেককেই অস্বস্তিতে ফেলে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি সবসময় গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দেয় না। একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্মৃতিশক্তি স্থির বা অপরিবর্তনীয় নয়। বরং নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে যেকোনো বয়সেই একে আরও কার্যকর ও তীক্ষ্ণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো মনোযোগ। আমরা যখন একই সময়ে একাধিক কাজে ব্যস্ত থাকি, তখন মস্তিষ্ক কোনো তথ্য গভীরভাবে ধারণ করতে পারে না। ফলে তথ্যটি দীর্ঘমেয়াদে মনে থাকে না। নতুন কিছু শোনা বা দেখার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তথ্যটি গ্রহণের পর সেটি কয়েকবার মনে মনে বা উচ্চারণ করে পুনরাবৃত্তি করলে তা স্মৃতিতে দৃঢ়ভাবে স্থাপন হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিহার্সাল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও নাম শোনার পর কথোপকথনের সময় সেই নামটি কয়েকবার ব্যবহার করলে তা মনে রাখা সহজ হয়।

বড় বা জটিল তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল কার্যকর হতে পারে। দীর্ঘ কোনো নম্বর বা তথ্য একসঙ্গে মনে রাখার চেষ্টা না করে সেটিকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করলে মনে রাখা সহজ হয়। যেমন একটি মোবাইল নম্বর তিন বা চার সংখ্যার অংশে ভাগ করলে তা সহজে মনে থাকে। একইভাবে ছন্দ, সংকেত বা বিশেষ স্মারক চিহ্ন ব্যবহার করেও তথ্য ধরে রাখা যায়। কোনো নতুন তথ্যকে পূর্বপরিচিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে সেটি স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ কৌশলকে অ্যাসোসিয়েশন বলা হয়।

স্মৃতিশক্তি কেবল মানসিক অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল নয়, শারীরিক সুস্থতার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্ককে সংগঠিতভাবে তথ্য সংরক্ষণে সহায়তা করে। ঘুমের ঘাটতি হলে মনোযোগ ও বিচারক্ষমতা ব্যাহত হয়, যা সরাসরি স্মৃতিতে প্রভাব ফেলে। নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার, বিভিন্ন রঙের শাকসবজি ও ফল অন্তর্ভুক্ত করা স্মৃতিশক্তির জন্য উপকারী।

আধুনিক প্রযুক্তিও স্মৃতিশক্তি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিটি তথ্য মনে রাখার অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে ক্যালেন্ডার, স্মার্টফোন রিমাইন্ডার বা নোটবুক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা সহজ হয় এবং মস্তিষ্কের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, স্মৃতিশক্তিকে একটি পেশির সঙ্গে তুলনা করা যায়। নিয়মিত ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যা করলে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ছোট ছোট অভ্যাসগত পরিবর্তন দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সচেতন মনোযোগ, সুস্থ জীবনযাপন এবং কিছু কার্যকর কৌশল অনুসরণ করলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed