Bp News USA

ক্যাটজকে ঘিরে ক্ষোভের ঝড়

২৬ জানুয়ারি এনওয়াইপিডি কর্মকর্তাদের গুলিতে আহত ২২ বছর বয়সী জাবেজ চক্রবর্তীর হাসপাতালের শয্যা থেকে ভিডিওর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেওয়াকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। ১৩ ফেব্রুয়ারি জাবেজের মা পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ডিএ ক্যাটজের কাছে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিবৃতিতে তিনি ঘটনাটিকে একটি দুঃস্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারটি কেবল চিকিৎসা সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিল, পুলিশের হস্তক্ষেপ নয়। ৯১১ নম্বরে ফোন করার সময় তারা কল্পনাও করেননি যে পরিস্থিতি এমন পরিণতির দিকে যাবে। এনওয়াইপিডি পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত জাবেজ এবং পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বাড়িতেই নিরাপদে ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জাবেজ একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে সুস্থ হওয়ার দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, তিনি হাসপাতালের বিছানায় হাতকড়া পরা অবস্থায় রয়েছেন। একই সময়ে ডিএ কার্যালয় তাকে কারাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, যা পরিবার গভীরভাবে অন্যায্য বলে মনে করছে। তাদের প্রশ্ন, এত শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার পরও কেন একজন তরুণকে আরও শাস্তির মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। পরিবার চায়, তাকে অন্তত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হোক।

মায়ের বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে তারা নিজেদের চোখের সামনে জাবেজকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছেন। এর পর এনওয়াইপিডি সদস্যরা পরিবারের অভিবাসন অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের ফোন নিয়ে নেন এবং হাসপাতালে জাবেজের সঙ্গে দেখা করতেও বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পরিবার অন্যায় বলে দাবি করছে। পাশাপাশি জামিনের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা পরিবারকে আর্থিক ও মানসিকভাবে চাপে ফেলছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জাবেজের সিভিল এটর্নি গিডিয়ন অলিভার বলেন, ডিএ ক্যাটজের কার্যালয় তড়িঘড়ি করে গোপনে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আদালতে রিমান্ড চেয়েছে, যা তার মতে অপ্রয়োজনীয় ও বিবেকবর্জিত সিদ্ধান্ত। তার বক্তব্য, জাবেজের প্রকৃত প্রয়োজন চিকিৎসা ও সহায়তা, কারাবাস নয়। তিনি ডিএ’র কাছে মামলাগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

অধিকারভিত্তিক সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ আহমেদ বলেন, সিস্টেমের প্রতিটি স্তরে জাবেজ ব্যর্থতার শিকার হয়েছেন। তার মতে, একজন আহত তরুণের পাশে দাঁড়িয়ে সুস্থ হওয়ার সহায়তা করার বদলে তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জাবেজ তার পরিবারের জন্য কোনো হুমকি ছিলেন না এবং এনওয়াইপিডি আসার আগে তিনি নিজ বাড়িতেই নিরাপদ ছিলেন। চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও গুলির মুখে পড়া এবং পরবর্তীতে ফৌজদারি ব্যবস্থার সম্মুখীন হওয়া বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাস্টিস কমিটির নির্বাহী পরিচালক লয়দা কোলন বলেন, সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি মানসিক চাপ বাড়াতে পারে, তবুও শহর প্রশাসন মানসিক স্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে এনওয়াইপিডিকে রেখেছে। তার অভিযোগ, পরে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদেরই দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, জাবেজের চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল এবং তিনি বাড়িতে নিরাপদ ছিলেন, যেমন ছিলেন উইন রোজারিও, মোহামেদ বাহ, ইমান মোরালেসসহ আরও অনেকে। তার ভাষায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পূর্বানুমেয় ফলাফল, যেখানে নির্বাচিত কর্মকর্তারা নাগরিকদের জীবন ও কল্যাণের চেয়ে পুলিশ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেন।

তিনি দাবি করেন, জননিরাপত্তার নামে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কারাবন্দি করার প্রবণতা উপেক্ষা করছে সেই গবেষণালব্ধ সত্যকে যে কারাবাস মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় এবং বিকাশগত ক্ষতি বাড়ায়। ডিএ ক্যাটজের কাছে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি মেয়রের প্রতি পুলিশের নেতৃত্বাধীন মডেল থেকে সরে এসে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একযোগে জাবেজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার এবং তার চিকিৎসা চলাকালে হাতকড়া খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed