উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ পদে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা। এর মধ্য দিয়ে দলীয় নেতৃত্বে তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থান আরও সম্প্রসারিত হলো এবং ক্ষমতার মেয়াদও বৃদ্ধি পেল।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার দলীয় কংগ্রেসের চতুর্থ দিনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদেরও নতুন করে নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওই পরিবর্তনগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়ায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এই কংগ্রেসকে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। এখানেই দলীয় নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হয়।
২০১১ সালে তৎকালীন নেতার মৃত্যুর পর থেকে বর্তমান নেতা দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরপর ২০১৯ সালে দেশটির পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে তাঁর ক্ষমতাকে একক ও অখণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। একই সময়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করা হয়। ফলে দল ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বোচ্চ ক্ষমতা তাঁর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
চলতি বছরের কংগ্রেসে দলের গত পাঁচ বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে শীর্ষ নেতা বলেন, নিজেদের ধাঁচে সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত পাঁচ বছর ছিল গর্বের সময়। তবে তিনি স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে এই সময়কালে।
কংগ্রেসে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। তাঁরা বিভিন্ন নীতিগত বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। যদিও বক্তব্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কংগ্রেসকে সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কংগ্রেসের আগে অনুষ্ঠিত এক পৃথক অনুষ্ঠানে শীর্ষ নেতা পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন কয়েক ডজন রকেট লঞ্চার উন্মোচন করেন। এগুলোকে তিনি ‘দারুণ’ ও ‘আকর্ষণীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সামরিক সক্ষমতার এই প্রদর্শন দেশটির প্রতিরক্ষা অবস্থান এবং কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় নেতৃত্বে পুনর্নির্বাচন এবং সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন একই সময়ে হওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বার্তার অংশ হতে পারে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক কংগ্রেসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিবর্তে ধারাবাহিকতাই বজায় রাখা হয়েছে। দলীয় কাঠামো ও নীতিনির্ধারণে বর্তমান নেতৃত্বের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় কংগ্রেসের সিদ্ধান্তগুলো আগামী পাঁচ বছরে দেশের রাজনৈতিক ও নীতিগত গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, জনস্বাস্থ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে নতুন পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।







Add comment