বিশ্বের জনসংখ্যা যখন ৮০০ কোটির মাইলফলক পেরিয়ে দ্রুত ৮২০ কোটির দিকে বাড়ছে, তখন সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটছে শহরে। জীবিকা, শিক্ষা, উন্নত নাগরিক সুবিধা কিংবা কখনো বিপর্যয়—সব মিলিয়ে মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত নগরমুখী হচ্ছে। ফলাফল—প্রতি বছর বেড়েই চলেছে মেগা সিটির সংখ্যা ও ঘনত্ব।
জাতিসংঘ প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—বিশ্বের শীর্ষ ১০ জনবহুল মেগা সিটির মধ্যে ৯টি এশিয়ায়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাকার্তা, আর সবচেয়ে বড় লাফ দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ঢাকা।
নিচে এক নজরে দেখা যাক শীর্ষ ১০ জনবহুল মেগা সিটির চিত্র—
১) জাকার্তা — ইন্দোনেশিয়া
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগর জাকার্তা, যেখানে বসবাস করে প্রায় ৪ কোটি ১৯ লাখ মানুষ। উপকূলীয় এই শহর অতীতে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি—বিশেষত কর্মসংস্থানের আশায় অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ঢল—তাকে শীর্ষ স্থানে নিয়ে এসেছে।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে আবাসন, সেবা–ব্যবস্থা ও পরিবহন এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাকার্তার জন্য।
২) ঢাকা — বাংলাদেশ
মাত্র ২৫ বছরে সাত ধাপ এগিয়ে ঢাকা আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেগা সিটি। বসবাস করছেন প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ।
অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত দুই দশকে টোকিওর তুলনায় ঢাকার জনসংখ্যা সাত গুণ বেশি হারে বেড়েছে। একই হারে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা জাকার্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই পরিকল্পিত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে নগর ব্যবস্থাপনায় বড় সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩) টোকিও — জাপান
একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মেগা সিটি ছিল টোকিও। বর্তমানে এটি তৃতীয় স্থানে আছে, জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ।
যথাযথ নগর পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ–নীতির কারণে টোকিওর জনসংখ্যা বাড়ছে ধীরগতিতে, এবং আগামী দশকে এটি আরও নিচে নেমে যেতে পারে।
৪) নয়াদিল্লি — ভারত
পুরোনো শহর, দ্রুত বৃদ্ধি—এই দুইয়ের মিলনে নয়াদিল্লি আজ বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল শহর। জনসংখ্যা ৩ কোটি ২ লাখ ছাড়িয়েছে।
দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামোর ওপর চাপ, ঘনবসতি, দূষণ—সব মিলিয়ে টেকসই নগর গড়ে তোলা সেখানে বড় চ্যালেঞ্জ।
৫) সাংহাই — চীন
ইয়াংজি নদীর মোহনায় ছোট জেলেপল্লী থেকে আজকের বিশাল মেগা সিটি—সাংহাইয়ে বসবাস করছেন ২ কোটি ৯৬ লাখ মানুষ।
দেশ-বিদেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য এই শহর। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৫০ সালে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেগা সিটি হতে পারে।
৬) গুয়াংজু — চীন
প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ বাসিন্দা নিয়ে গুয়াংজু চীনের তৃতীয় বৃহত্তম নগর। বছরের অর্ধেক সময়েই এখানে ‘ফ্লোটিং পপুলেশন’ হিসেবে অতিরিক্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষ যুক্ত হয়।
দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রম–চাহিদা এই শহরকে জনবহুল করে তুলেছে।
৭) কায়রো — মিসর
এশিয়ার বাইরে শীর্ষ ১০ মেগা সিটির একমাত্র শহর কায়রো। পিরামিডের নগর কায়রোতে বসবাস করেন ২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ।
অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, পর্যটকদের ভিড় এবং সরকারি–ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব কায়রোকে আরও ব্যস্ত করে তুলেছে।
৮) ম্যানিলা — ফিলিপাইন
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বর্তমানে ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ। অপরিকল্পিত শহরায়ণ, দূষণ ও অপরাধ—এসবের মাঝেও ম্যানিলা দ্রুত বাড়ছে।
এখানেই রয়েছে বিশ্বের প্রাচীনতম চায়না টাউন।
৯) কলকাতা — ভারত
ভারতের আরেক মেগা সিটি কলকাতা। বসবাস করেন ২ কোটি ২৫ লাখ মানুষ। একসময় শীর্ষ পাঁচে থাকলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনামূলক ধীর গতির কারণে এখন নবম স্থানে।
১০) সিউল — দক্ষিণ কোরিয়া
তালিকার শেষ শহর সিউল, যেখানে বসবাস করছেন ২ কোটি ২৫ লাখ মানুষ। উন্নত অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও আধুনিক নগর পরিকল্পনা প্রমাণ করে, মেগা সিটি শুধুই জনসংখ্যা–বিস্ফোরণের ফল নয়—স্মার্ট পরিকল্পনার মাধ্যমেও এটি গড়ে ওঠে।



