অ্যান্টার্কটিকার প্রতীকী প্রাণী এম্পেরর পেঙ্গুইন এখন বিলুপ্তির প্রান্তে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সমুদ্রের বরফের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় এই পেঙ্গুইনরা ছোট ছোট বরফখণ্ডে একত্র হয়ে ঘিঞ্জি অবস্থায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘনবসতি তাদের প্রজনন ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের প্রধান গবেষক জানিয়েছেন, সমুদ্রের বরফের হ্রাস অব্যাহত থাকলে এম্পেরর পেঙ্গুইনের বিলুপ্তির সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তিনি বলেন, প্রতিটি পেঙ্গুইন প্রতি বছর তাদের পুরনো পালক ঝরিয়ে নতুন পানিরোধী পালক গজানোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, যা মোল্টিং নামে পরিচিত। এই তিন থেকে চার সপ্তাহের সময়ে পেঙ্গুইনরা সমুদ্রের পানিতে নামতে পারে না, কারণ পালক ছাড়া তাদের শরীরের জলরোধী ক্ষমতা থাকে না। একই সঙ্গে এই সময় তারা খাদ্যগ্রহণও করতে পারে না। তাই মোল্টিং শুরু হওয়ার আগে তারা শরীরের ওজন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়, যা তাদের জীবিত থাকার জন্য অপরিহার্য।
স্যাটেলাইট ইমেজে প্রথমবারের মতো মারি বার্ড ল্যান্ডের উপকূলে মোল্টিং পেঙ্গুইনের কলোনি ধরা পড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের আগে এই উপকূলে শতাধিক মোল্টিং পেঙ্গুইন দল শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের পর সেই সংখ্যা হ্রাস পেয়ে মাত্র ২৫-এ নেমেছে। সমুদ্রের বরফ কমে যাওয়ায় হাজার হাজার পেঙ্গুইন এখন খুব ছোট ছোট বরফখণ্ডে ঘনবসতি করছে।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকার সমুদ্রের বরফ রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। এই অঞ্চলের গড় পাঁচ লাখ বর্গকিলোমিটার বরফের আস্তরণ কমে এক লাখ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। এর প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ এম্পেরর পেঙ্গুইনকে মাত্র দুই হাজার বর্গকিলোমিটার বরফের ওপর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সম্ভাব্য অনেক পেঙ্গুইন নতুন জলরোধী পালক গজানোর আগেই সমুদ্রের ঠান্ডা পানিতে পড়তে পারে এবং প্রাণ হারাতে পারে। এমন ঘটলে এই প্রজাতির জন্য পরিস্থিতি আমাদের ধারণার চেয়ে আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে।
এম্পেরর পেঙ্গুইনদের বংশবিস্তার খুব ধীরগতিতে হয়। তারা ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচলেও মাত্র তিন থেকে ছয় বছর বয়সে প্রজনন শুরু করে। ফলে একবার বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে প্রজনন সংখ্যা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরফের সংকটের কারণে পেঙ্গুইনরা হয়তো নতুন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে শুরু করবে। তবে অ্যান্টার্কটিকার স্থিতিশীল বরফের চাদর এখন বিরল হয়ে উঠেছে, যা তাদের জন্য এক উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতি এম্পেরর পেঙ্গুইনের ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রজাতির টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।





Add comment