যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন কর্মকর্তা। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা শাখায় লেফটেন্যান্ট কমান্ডার পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি শুধু নিজের ব্যক্তিগত সাফল্যই অর্জন করেননি, বরং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেছেন। এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি এনওয়াইপিডির ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এই উচ্চ পদে উন্নীত হন। তার এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক গর্ব ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করেছে।
এই কর্মকর্তার জন্ম বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘার গ্রামে। ছোটবেলা কাটে গ্রামীণ পরিবেশে। পরবর্তীতে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করা সহজ ছিল না। তবে দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস তাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যোগ দেন এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ফলে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পান।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা শাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট হিসেবে পরিচিত। এখানে কর্মরত কর্মকর্তারা বিভিন্ন জটিল অপরাধ তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই শাখায় লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া তাই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি অর্জন।
এই পদে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে তিনি শুধু একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবেও বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী সম্প্রদায়ের অনেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলেও এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এমন পদে পৌঁছানো ছিল বিরল ঘটনা।
তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম এবং যোগ্যতার মাধ্যমে অভিবাসীরাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন। অনেক তরুণ অভিবাসীর জন্য তার জীবন সংগ্রাম এবং সাফল্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে স্কুল বাস ব্যবস্থাপনা কমিশনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
তার কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে নতুন দেশে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সম্ভব, যদি থাকে অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস। একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয়।
প্রবাসে থেকেও নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখে তিনি দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তার এই যাত্রা অনেক তরুণকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





Add comment