শীতের আমেজ মানেই উৎসবের রঙিন আবহ। আর উৎসব মানেই সাজগোজের প্রস্তুতি। বিশেষ দিনগুলোতে নিজের উপস্থিতি আকর্ষণীয় করে তুলতে সবাই কমবেশি মেকআপের আশ্রয় নেন। তবে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত লুক পাওয়া যায় না। শীতকালে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে। ফলে মেকআপ করলেও ত্বকে সেই কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা ফুটে ওঠে না।
ত্বক যদি সুস্থ ও পুষ্ট না থাকে, তার ওপর ভারী মেকআপ প্রয়োগ করলে তা ত্বকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ত্বককে আরও নিষ্প্রভ করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, ত্বক যখন থাকে হাইড্রেটেড, মসৃণ ও প্রাণবন্ত, তখন মেকআপও সুন্দরভাবে বসে এবং স্বাভাবিক দীপ্তি বজায় থাকে। তাই উৎসবের দিন নিখুঁত গ্লোয়িং স্কিন পেতে হলে আগে থেকেই শুরু করতে হবে সঠিক ত্বক পরিচর্যা।
ক্লিনজিং ও এক্সফোলিয়েশন: যত্নের ভিত্তি
ত্বক ভালো রাখার প্রথম ধাপ হলো সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা। প্রতিদিনের ধুলাবালু, দূষণ ও অতিরিক্ত তেল ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে উজ্জ্বলতা কমে যায়। তাই মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে দিনে অন্তত দুইবার মুখ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সপ্তাহে এক থেকে দুইবার হালকা স্ক্রাব বা কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করলে মৃত কোষ দূর হয়। এতে ত্বক হয় মসৃণ এবং পরবর্তী স্কিনকেয়ার পণ্যগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন ত্বকের টেক্সচার উন্নত করতেও সহায়ক।
শীতে হাইড্রেশনই প্রধান চাবিকাঠি
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই এ সময় ত্বককে আর্দ্র রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকে দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা বজায় থাকে।
হালকা টেক্সচারের কিন্তু গভীরভাবে হাইড্রেট করে এমন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে কোমল ও নরম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের ভেতরে পানির ঘাটতি থাকলে বাহ্যিক যত্নের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায় না। তাই ভেতর ও বাইরে দুই দিক থেকেই হাইড্রেশন নিশ্চিত করতে হবে।
উজ্জ্বলতা ও সমান টোনের জন্য কার্যকর রুটিন
উৎসবের আগে ত্বকে প্রাকৃতিক গ্লো আনতে দরকার এমন স্কিনকেয়ার রুটিন, যা নিস্তেজ ভাব দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। এ ক্ষেত্রে গ্লুটা হায়া ডিউয়ি রেডিয়েন্স ও ফ্ললেস গ্লো কার্যকর হতে পারে।
গ্লুটা গ্লো প্রযুক্তি ভিটামিন সি থেকে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী বলে উল্লেখ করা হয়, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে। হায়ালুরন উপাদান ত্বকে গভীর হাইড্রেশন দেয় এবং ১০ গুণ সক্রিয় নিয়াসিনামাইড ত্বকের স্বাভাবিক দীপ্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে ফ্ললেস গ্লোর প্রো রেটিনল মৃত কোষ অপসারণ করে ত্বকের টেক্সচার মসৃণ করে এবং স্কিন টোন সমান করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয় আরও প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল ও সমান টোনের।
শীতেও সানস্ক্রিন অপরিহার্য
অনেকেই মনে করেন শীতকালে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সারা বছরই ত্বকের ক্ষতি করে। বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে ব্রড স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এটি পিগমেন্টেশন, ট্যান ও অকাল বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে।
নাইট কেয়ার: পুনরুজ্জীবনের সময়
দিন শেষে রাতে ত্বক নিজের পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। তাই ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে নাইট কেয়ার রুটিন অনুসরণ করা জরুরি। হাইড্রেটিং সিরাম ও লোশন ব্যবহার করলে ত্বক রাতভর পুষ্টি পায় এবং সকালে উঠে সতেজ ও উজ্জ্বল দেখায়।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সমান জরুরি
শুধু বাহ্যিক যত্ন যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, মৌসুমি ফল ও সবজি গ্রহণ এবং নিয়মিত পানি পান ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক। অতিরিক্ত ক্যাফেইন, ফাস্ট ফুড ও মিষ্টি পরিহার করলে ত্বক আরও সুস্থ থাকে।
সব মিলিয়ে উৎসবের দিনে গ্লোয়িং স্কিন পেতে হলে নিয়মিত ও সঠিক ত্বক পরিচর্যার বিকল্প নেই। আগে থেকেই যত্ন শুরু করলে বিশেষ দিনে ভারী মেকআপ ছাড়াও ত্বকের স্বাভাবিক দীপ্তিই আপনাকে করে তুলবে অনন্য।







Add comment