উৎসব শেষ হওয়ার পরপরই দেশে বাড়তে দেখা যাচ্ছে পেটের বিভিন্ন সমস্যা। বিশেষ করে পুরোনো বা বাসি খাবার খাওয়ার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এসব সমস্যার প্রধান কারণ হচ্ছে ফুড পয়জনিং, যা সাধারণত দূষিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ঘটে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসি বা পচা খাবারে সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবীর সংক্রমণ ঘটে। সালমোনেলা, ই কোলাই ও ক্যামপাইলোব্যাকটার ধরনের ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও নরো ভাইরাস এবং বিভিন্ন পরজীবী এই দূষণের জন্য দায়ী। এসব জীবাণু খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে পেটে সংক্রমণ তৈরি করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
ফুড পয়জনিংয়ের লক্ষণ সাধারণত খাবার গ্রহণের ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই প্রকাশ পায়। এ সময় পেটে ব্যথা, কামড়ানো অনুভূতি, বমি, ডায়রিয়া বা আমাশয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো ৫ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সাধারণ উপসর্গ হিসেবে দেখা যায় বমি ভাব, বারবার বমি, ডায়রিয়া, রক্তমিশ্রিত মল এবং পেট মোচড়ানো ব্যথা। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা, অরুচি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গও দেখা দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে, যার ফলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, চেতনা কমে আসা এবং মাংসপেশিতে ব্যথার মতো জটিলতা দেখা দেয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে চিকিৎসকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন গ্রহণের ওপর। পানিশূন্যতা প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ থাকা অবস্থায় অল্প অল্প করে পরিষ্কার, তরল বা সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ গ্রহণ না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। কারণ ভুল ওষুধ ব্যবহারে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ফুড পয়জনিং এড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পুরোনো বা বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং রাস্তার অপরিচ্ছন্ন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে রেফ্রিজারেশন নিশ্চিত করা জরুরি। খাবার পুনরায় গরম করার সময় তা যথেষ্ট তাপমাত্রায় নিয়ে ভালোভাবে গরম করতে হবে।
এছাড়া কাঁচা, আধা সেদ্ধ ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে সহজেই জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রান্নাঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উৎসব-পরবর্তী সময়ে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য অসচেতনতা বড় ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ঝুঁকি এড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।





Add comment