এক মাসের সংযমের পর ঈদের আনন্দে টানা কয়েক দিন ধরে পোলাও, কোরমা, মিষ্টান্ন এবং লাল মাংসের ভারী খাবার গ্রহণ শরীরের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত তেল, মসলা ও চিনি সমৃদ্ধ এসব খাবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে ঈদের পর অনেকেই অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় ভোগেন। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পুষ্টিবিদেরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
প্রথমত, শরীরকে সুস্থ রাখতে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। ঈদের ভারী খাবারের কারণে শরীরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ দূর করতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। সকালে কুসুম গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে তা লিভার পরিষ্কারে সহায়ক হয় এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। ঈদের সময় সাধারণত মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার কারণে ফাইবারের ঘাটতি তৈরি হয়। তাই ঈদের পরের দিনগুলোতে শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে পেঁপে, শসা এবং লাউয়ের মতো খাবার পেটের জন্য আরামদায়ক।
তৃতীয়ত, প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার হজমের জন্য বেশ উপকারী। টক দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া পেটের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। নিয়মিত দুপুরের খাবারের পর এক বাটি টক দই খেলে পেটের অস্বস্তি কমে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
চতুর্থত, পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দিতে কিছুদিনের জন্য লাল মাংস ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে মাছ, পাতলা ডাল এবং সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। একই সঙ্গে চিনিযুক্ত পানীয় বা কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করা স্বাস্থ্যসম্মত।
পঞ্চমত, খাওয়ার নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়ার অভ্যাস হজমের জন্য সহায়ক। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে তা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এছাড়া রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খেয়ে নেওয়া উচিত।
ষষ্ঠত, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের পর ভারী খাবারের কারণে শরীরে অলসতা দেখা দিতে পারে, তবে নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে সচল রাখে। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ঈদের পর হঠাৎ করে কঠোর ডায়েট শুরু করা উচিত নয়। এতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বরং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসাই সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উৎসবের আনন্দ উপভোগের পর শরীরকে সুস্থ রাখতে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনই পারে ঈদের পরবর্তী শারীরিক অস্বস্তি দূর করে স্বাভাবিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে।





Add comment