ফোর্বস ম্যাগাজিনের সর্বশেষ তালিকায় উঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের নাম। শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই তালিকা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। শেয়ারের দাম বাড়লে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, আর দাম কমলে সম্পদও কমে যায়। ফলে প্রায় প্রতিদিনই এই র্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন দেখা যায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক বর্তমানে কারা আছেন শীর্ষ দশে।
১০. রব ওয়ালটন অ্যান্ড ফ্যামিলি
ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান ১৯৯২ সালে পিতার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৫ সালে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরে তাঁর পুত্রবধূ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালে তিনি ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সরে দাঁড়ান। প্রতিষ্ঠাতার অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে মিলিয়ে ওয়ালটন পরিবারের হাতে এখনো কোম্পানির প্রায় ৪৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
৯. ওয়ারেন বাফেট, সম্পদ ১৫০.৫ বিলিয়ন ডলার
বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের সাবেক প্রধান নির্বাহী বিনিয়োগগুরু হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। অনেকেই তাঁকে শুধু সফল বিনিয়োগকারী নয়, বরং দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবেও বিবেচনা করেন। ২০০৬ সালে নিজের সম্পদের ৯৯ শতাংশ দান করার ঘোষণা দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন এবং সেই প্রতিশ্রুতির বড় অংশ ইতিমধ্যে পূরণ করেছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়লেও তিনি এখনো কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৮. জেনসেন হুয়াং, সম্পদ ১৬১ বিলিয়ন ডলার
১৯৯৩ সালে এনভিডিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিপ শিল্পে যাত্রা শুরু করেন এই উদ্যোক্তা। শুরু থেকেই তিনি সিইও ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোম্পানিটির প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। গেমিং শিল্পে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর এনভিডিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রভাব বিস্তার করে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির বাজারমূল্য চার ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
৭. বার্নার্ড আর্নল্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি, সম্পদ ১৬৪.৮ বিলিয়ন ডলার
এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান হিসেবে ৭৫টি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। লুই ভিতোঁ ও সেফোরার মতো ব্র্যান্ড এই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। ২০২১ সালে ১৫.৮ বিলিয়ন ডলারে টিফানি অ্যান্ড কো. অধিগ্রহণ বিলাসপণ্য খাতে বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল তাদের প্রতিষ্ঠান।
৬. ল্যারি এলিসন, সম্পদ ১৮৬.৫ বিলিয়ন ডলার
ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা বর্তমানে চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা। প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। ৩৭ বছর নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৪ সালে সিইও পদ ছাড়েন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেয়ারদর বৃদ্ধির ফলে তিনি একসময় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হন, যদিও পরে সেই মূল্য কমে যায়। মিডিয়া কোম্পানি প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের প্রায় অর্ধেক শেয়ারও তাঁর দখলে।
৫. জেফ বেজোস, সম্পদ ২২৪.৪ বিলিয়ন ডলার
১৯৯৪ সালে নিজ গ্যারাজ থেকে অ্যামাজনের যাত্রা শুরু করেন তিনি। ২০২১ সালে সিইও পদ ছাড়লেও নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত আছেন। কোম্পানির প্রায় ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের সময় অ্যামাজনের উল্লেখযোগ্য শেয়ার হস্তান্তর করেন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানা এবং ব্লু অরিজিন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও তিনি আলোচিত। জীবদ্দশায় অধিকাংশ সম্পদ দানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
৪. মার্ক জাকারবার্গ, সম্পদ ২২৬.৮ বিলিয়ন ডলার
১৯ বছর বয়সে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। ২০১২ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসে। বর্তমানে প্রায় ১৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। ২০২১ সালে ফেসবুকের নাম পরিবর্তন করে মেটা রাখা হয়। ২০১৫ সালে নিজের অধিকাংশ শেয়ার দান করার অঙ্গীকার করেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। নানা বিতর্ক সত্ত্বেও তিনি শীর্ষ ধনীদের তালিকায় অবস্থান ধরে রেখেছেন।
৩. সের্গেই ব্রিন, সম্পদ ২৪৩.৯ বিলিয়ন ডলার
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও অ্যালফাবেটের প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। স্ট্যানফোর্ডে সহপাঠীর সঙ্গে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও পরিচালনা পর্ষদে আছেন। পারকিনসনস রোগ গবেষণায় ১৫০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। তাঁর দাতব্য কাজের মূল লক্ষ্য স্নায়ুতন্ত্রজনিত রোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন।
২. ল্যারি পেইজ, সম্পদ ২৬৪.৪ বিলিয়ন ডলার
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রযুক্তি বিশ্বে তাঁর প্রভাব সুপ্রতিষ্ঠিত। পেজর্যাংক অ্যালগরিদম উদ্ভাবনের মাধ্যমে সার্চ প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটান। একসময় অ্যালফাবেটের সিইও থাকলেও ২০১৯ সালে দায়িত্ব ছাড়েন। বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত আছেন।
১. ইলন মাস্ক, সম্পদ ৮৪৪.২ বিলিয়ন ডলার
টেসলার সিইও ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স, তাঁরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই অধিগ্রহণ করে। এই লেনদেনের পরই তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাঁর একাধিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে।







Add comment