Bp News USA

ইন্টারভিউতে নার্ভাসনেস কমানোর উপায়

প্রফেশনাল জীবনে ইন্টারভিউ এমন একটি ধাপ, যেখানে দক্ষতার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বড় ভূমিকা রাখে। অনেক যোগ্য প্রার্থী শুধুমাত্র অতিরিক্ত নার্ভাস হওয়ার কারণে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারেন না। তবে কিছু সচেতন প্রস্তুতি ও মানসিক কৌশল অনুসরণ করলে এই নার্ভাসনেস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

১. প্রস্তুতিই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি

যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগেই ভালোভাবে জেনে নিন। তাদের কাজ, ভিশন, সাম্প্রতিক কার্যক্রম এবং আপনার পদের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন। সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে থেকে অনুশীলন করলে হঠাৎ করে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

২. মক ইন্টারভিউ অনুশীলন করুন

বন্ধু, সহকর্মী বা পরিবারের কাউকে নিয়ে মক ইন্টারভিউ করুন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে উত্তর দেওয়ার প্র্যাকটিসও কার্যকর। এতে নিজের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, চোখের যোগাযোগ ও কথার গতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়।

৩. শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল

ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে কয়েক মিনিট ধীর ও গভীর শ্বাস নিন। চার সেকেন্ড শ্বাস নিন, চার সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ধীরে ছাড়ুন। এই প্রক্রিয়া হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং তাৎক্ষণিক চাপ কমায়।

৪. ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলুন

নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে আপনি প্রস্তুত এবং এই সুযোগের যোগ্য। “আমি পারব না” ধরনের চিন্তার পরিবর্তে “আমি চেষ্টা করব এবং সেরাটা দেব” এমন ভাবনা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ইতিবাচক সেলফ-টক নার্ভাসনেস কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৫. সময়মতো পৌঁছান

ইন্টারভিউ ভেন্যুতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। দেরি হওয়ার আশঙ্কা নিজেই বাড়তি চাপ তৈরি করে। আগে পৌঁছালে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাওয়া যায়।

৬. উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন

প্রফেশনাল ও পরিপাটি পোশাক আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিজের উপস্থাপনা নিয়ে স্বস্তিতে থাকলে মনোযোগ পুরোপুরি কথোপকথনে রাখা সহজ হয়।

৭. প্রশ্নকে কথোপকথন হিসেবে দেখুন

ইন্টারভিউকে জেরা হিসেবে না দেখে একটি পেশাদার আলোচনার অংশ হিসেবে ভাবুন। প্রতিষ্ঠান যেমন আপনাকে যাচাই করছে, তেমনি আপনিও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৮. ভুলকে স্বাভাবিকভাবে নিন

কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সামান্য থেমে গেলে বা ছোট ভুল হলে বিচলিত হবেন না। শান্তভাবে নিজেকে সংশোধন করুন। ইন্টারভিউ বোর্ড সাধারণত আত্মসংযমকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

৯. পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

ইন্টারভিউর আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিন। খালি পেটে বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। শারীরিক স্বস্তি মানসিক স্থিরতাকে প্রভাবিত করে।

১০. অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন

প্রথম ইন্টারভিউতেই সবকিছু নিখুঁত হবে এমন প্রত্যাশা না রেখে প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন। কোথায় ভালো করেছেন এবং কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে তা বিশ্লেষণ করলে ভবিষ্যৎ ইন্টারভিউতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

ইন্টারভিউ নার্ভাসনেস পুরোপুরি দূর করা সবসময় সম্ভব না হলেও সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক প্রস্তুতি, ইতিবাচক মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাসই সফল প্রফেশনাল জীবনের প্রথম ধাপ।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed