ইউক্রেন এখন দেশটির প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার সড়ক ড্রোনরোধী জালে ঢেকে ফেলার কাজ ত্বরান্বিত করছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূলত যেসব এলাকায় সরাসরি যুদ্ধ চলছে, সেসব সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রুটগুলিতে এই জাল বসানোর কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। দেশটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চাচ্ছে।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনের অভ্যন্তরে সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পৌঁছানোর পথে রাশিয়ার ড্রোন হামলারোধে এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে অনেক সড়ক জালে ঢেকে ফেলা হয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আরও ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছে। রাশিয়ার ড্রোন মোকাবিলায় এবং সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক এলাকা নিরাপদ রাখতে ইউক্রেনের বাজেটে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।
এই বিশেষ জাল মূলত ড্রোনের প্রপেলার আটকানোর কাজ করে। ফলে ড্রোনগুলো তাদের লক্ষ্য—যা হতে পারে সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য বা বেসামরিক অবকাঠামো—তাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই অকার্যকর হয়ে যায়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী টেলিগ্রাম অ্যাপে জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে তারা দৈনিক পাঁচ কিলোমিটার করে জাল বসাচ্ছিল। ফেব্রুয়ারিতে কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দৈনিক ১২ কিলোমিটার করা হয়েছে, যা সামরিক যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করেছে এবং সম্মুখসারির এলাকাগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে।
তিনি আরও জানান, মার্চ থেকে প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার করে সড়ক জালের আওতায় আনা হবে। বছরের শেষ নাগাদ মোট চার হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়াও, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়—উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ ও সুমি, এবং উত্তরের চেরনিহিভ অঞ্চলে—প্রতিরক্ষাদুর্গ নির্মাণের কাজও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দুর্গ যুদ্ধবিরতি এবং আক্রমণের সময় সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক এলাকা উভয়ই সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের এই উদ্যোগ শুধুমাত্র সামরিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বেসামরিক জনসাধারণের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব এলাকা সরাসরি সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ড্রোনরোধী জালের উপস্থিতি আংশিক হলেও বেসামরিক ক্ষতি কমাতে সাহায্য করবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ইউক্রেনের সামগ্রিক যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উভয় সামরিক এবং বেসামরিক নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে, ইউক্রেনের সরকার প্রতিরক্ষামূলক এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ককে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা এবং সামরিক সরবরাহ ও সেনা যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউক্রেন কেবল সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীকে রক্ষা করছে না, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নিশ্চিত করছে।







Add comment