Bp News USA

আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইফতারের অনন্য আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য রমজান মানে শুধুই ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং প্রবাসের মাটিতে সংস্কৃতি ও শিকড়কে ধরে রাখার এক গভীর প্রয়াস। হাজার মাইল দূরে থেকেও তারা চেষ্টা করেন দেশীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী ইফতার আয়োজন করতে। সময়ের পার্থক্য, কর্মব্যস্ততা ও ভিন্ন সামাজিক পরিবেশের মধ্যেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইফতারকে ঘিরে গড়ে তোলেন এক মিলনমেলা।

বিশেষ করে New York City, Paterson, Detroit এবং Houston–এর মতো শহরগুলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি বেশ শক্তিশালী। এসব এলাকায় রমজান মাসজুড়ে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় মসজিদগুলো স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয় স্থানীয় সূর্যাস্তের ওপর ভিত্তি করে। ইসলামিক সেন্টারগুলো প্রতি বছর রমজানের সময়সূচি প্রকাশ করে দেয়। অধিকাংশ বাংলাদেশি পরিবার মোবাইল অ্যাপ বা স্থানীয় মসজিদের ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে রোজা ভাঙেন। আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা হয়—যা প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে অনুসৃত। এরপর পরিবেশন করা হয় ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, ফলের চাট ও শরবতের মতো দেশীয় খাবার।

প্রবাসে ইফতারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো “কমিউনিটি ইফতার”। সপ্তাহান্তে বড় পরিসরে আয়োজন করা হয় সম্মিলিত ইফতার মাহফিল। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সবাই একত্রিত হন। অনেকে ঘরে রান্না করা খাবার নিয়ে আসেন, ফলে তৈরি হয় এক বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন। এসব অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা, কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজনও থাকে।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে রমজানের চেতনা জাগ্রত রাখতে অনেক ইসলামিক স্কুল ও সংগঠন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা রোজার গুরুত্ব, দান-সদকার ফজিলত ও শিষ্টাচার শেখায়। অনেক বাংলাদেশি পরিবার সন্তানদের নিয়ে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান, যাতে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।

কর্মব্যস্ত জীবনের কারণে অনেকেই অফিস শেষে সরাসরি মসজিদে গিয়ে ইফতার করেন। আবার কেউ কেউ কর্মস্থলেই ছোট পরিসরে সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতার ভাগ করে নেন। বহুজাতিক পরিবেশে এ ধরনের আয়োজন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেও সৌহার্দ্য তৈরি করে।

দান-সদকার বিষয়টিও প্রবাসে বেশ গুরুত্ব পায়। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় চ্যারিটিতে অনুদান দেন, পাশাপাশি বাংলাদেশের দরিদ্র আত্মীয়স্বজন বা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় অর্থ পাঠান। ফলে রমজান হয়ে ওঠে এক বৈশ্বিক মানবিক সংযোগের সেতুবন্ধন।

সব মিলিয়ে, আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইফতার শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় রীতি নয়; এটি প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও ঐক্য, সংস্কৃতি ও আত্মিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দূরদেশে থেকেও তারা রমজানের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে রাখেন আন্তরিকভাবে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed