Bp News USA

আইসিই সংস্কার আলোচনায় অচলাবস্থা

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসের আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহে দপ্তরটির অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতার কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়ার আগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট ত্যাগ করলেও দুই দলের মধ্যে দোষারোপ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের অর্থায়ন শেষ হচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারি। নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও আলোচনা এখনো একই জায়গায় আটকে আছে। সাম্প্রতিক সরকারি অর্থায়ন প্যাকেজে ডেমোক্র্যাটরা দপ্তরটির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি তুলেছে। বিশেষ করে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সংস্কারের ওপর তারা জোর দিচ্ছে। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু দলনেতা এবং সিনেটের সংখ্যালঘু দলনেতা বুধবার রাতে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখোশ ছাড়া অভিযান পরিচালনা, পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা, বিভিন্ন অভিযানের ক্ষেত্রে বিচারিক পরোয়ানা গ্রহণ এবং স্কুল, গির্জার মতো সংবেদনশীল এলাকায় অভিযান না চালানো। বর্তমানে আইসিই জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিচারিক পরোয়ানার বাধ্যবাধকতা নেই, যা নিয়েও আপত্তি তুলেছে ডেমোক্র্যাটরা।

তবে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলনেতা এসব প্রস্তাব দ্রুতই নাকচ করে দেন। তাঁর ভাষায়, এই দাবিগুলো বাস্তবসম্মত নয় এবং আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, শুরুতে তিনটি দাবি থাকলেও এখন তা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে ডেমোক্র্যাটরা এখনো আন্তরিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়। তাঁর আশঙ্কা, কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন করলে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, কিছু বিষয়ে আলোচনার সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ দাবি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত দুই সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের কাঠামোগত সংস্কার করা কার্যত অসম্ভব।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে দপ্তরটি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের দৃষ্টিতে জরুরি হিসেবে বিবেচিত সংস্থাগুলো, যেমন পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন, ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং কোস্ট গার্ড কাজ চালিয়ে যাবে। তবে বহু কর্মী বেতন ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইসিই সম্প্রতি একটি বড় অর্থায়ন বিলের আওতায় বিপুল বরাদ্দ পেয়েছে, যা শাটডাউনের প্রভাবের বাইরে থাকবে।

এই আলোচনায় আরও একটি বড় জটিলতা তৈরি করেছে রিপাবলিকানদের নিজস্ব দাবি। তারা তথাকথিত অভয়ারণ্য শহরগুলোর জন্য ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব শহর অবৈধ অভিবাসীদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। রিপাবলিকানদের মতে, আইন প্রয়োগে আইসিইকে দুর্বল করা যাবে না এবং আলোচনার শুরু হওয়া উচিত এসব শহরের নীতির অবসান দিয়ে।

ডেমোক্র্যাটরা এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি, স্থানীয় বাসিন্দারা যদি নির্বাসনের ভয় ছাড়া অপরাধের তথ্য দিতে পারেন, তাহলে শহরগুলো আরও নিরাপদ হয়।

সিনেটের বরাদ্দ উপকমিটির এক জ্যেষ্ঠ সদস্য স্বীকার করেছেন যে, সামনে এগোনোর পথ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে একই কমিটির রিপাবলিকান সভাপতি মন্তব্য করেন, বিষয়টি এখন হয়তো হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রয়োজন।

অনেক আইনপ্রণেতার মতে, সময় খুব কম থাকায় প্রেসিডেন্টকে সরাসরি আলোচনায় যুক্ত হতে হবে। সিনেটের এক রিপাবলিকান সদস্য বলেন, প্রেসিডেন্টের সক্রিয় ভূমিকা সংকট সমাধানে সহায়ক হতে পারে।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়ন বিলের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আপত্তির কারণে সিনেটে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এরই মধ্যে কিছু আইনপ্রণেতা মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য নতুন অস্থায়ী বিলের কথা ভাবছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর কোনো অস্থায়ী সমাধানের পক্ষে ভোট দেবেন না। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় একজন সদস্যও বিরোধিতা করলে বিল পাস কঠিন হয়ে উঠবে।

এই পরিস্থিতিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর নিজ উদ্যোগে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেমন নির্দিষ্ট এলাকায় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এসব পরিবর্তন আইন দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সেগুলো বাতিল করা না যায়। তাদের মতে, দপ্তরটির অর্থায়নের বিনিময়ে এই ন্যূনতম সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed