Bp News USA

আইসিই চুক্তি ঘিরে উত্তাল শহরগুলো

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থা আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় সরকারগুলোর দীর্ঘদিনের চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কমিউনিটিতে প্রতিবাদ জোরদার হচ্ছে। প্রশিক্ষণ সুবিধা ব্যবহার থেকে শুরু করে পার্কিং স্পেস ভাড়া পর্যন্ত নানা সেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব চুক্তি নিয়ে জনমনে বাড়ছে অসন্তোষ।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এসকন্ডিডো শহরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের গান রেঞ্জে আইসিই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রায় অগোচরেই চলছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পর থেকেই শহরটিতে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে।

প্রায় দেড় লাখ মানুষের বাস এসকন্ডিডোতে, যা সান ডিয়েগোর উত্তরে কৃষিজমি ও ঘোড়ার খামারে ঘেরা একটি এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, শহর কর্তৃপক্ষ যেন পুলিশ বিভাগের রেঞ্জে আইসিইর প্রশিক্ষণের অনুমতি বাতিল করে। একজন বিক্ষোভকারী, ৭১ বছর বয়সী এক বাসিন্দা, পুলিশ স্টেশনের সামনে সমাবেশে বলেন, তারা চান না আইসিই এসকন্ডিডোর আশপাশে থাকুক বা পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখুক।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের বিভিন্ন শহরে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ সীমা ছাড়িয়েছে। মিনিয়াপোলিসে বড় আকারের বিক্ষোভের পাশাপাশি নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কমিউনিটিতে স্থানীয় সরকার ও আইসিইর পুরোনো চুক্তির বিরোধিতা করা হচ্ছে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহারের অনুমতি, কোথাও পার্কিং সুবিধা, আবার কোথাও বিশাল গুদামঘর দখলের পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। এসব গুদামঘরের কিছুতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অভিবাসন আটক ব্যক্তিকে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

চলমান বিতর্কের মধ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে বরাদ্দ অর্থ অনুমোদনও স্থগিত রয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমে নতুন সীমা আরোপ না করা পর্যন্ত তারা অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদনে সহায়তা করবেন না। মিনিয়াপোলিসে গত মাসে নিহত দুই মার্কিন নাগরিকের ঘটনা এই অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।

এসকন্ডিডো সিটি কাউন্সিল বুধবারের বৈঠকে আইসিইর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় তোলার কথা রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক শহরের তুলনায় অতীতে এসকন্ডিডোর সঙ্গে আইসিইর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। একসময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পুলিশ সদর দপ্তরে কাজ করতেন এবং যানবাহন থামানোর মতো কার্যক্রমে সমন্বয় করতেন। তবে ২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করে আইন পাস করলে সেই অংশীদারিত্বের ইতি ঘটে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, শহরের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত গান রেঞ্জে আইসিইর প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। অনলাইনে চুক্তিপত্র খুঁজে পাওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। তাদের আশঙ্কা, এই তথ্য ছড়িয়ে পড়লে অভিবাসীরা অপরাধের শিকার হলেও পুলিশে অভিযোগ জানাতে ভয় পাবে, ফলে জননিরাপত্তা দুর্বল হতে পারে। শহরটির প্রায় অর্ধেক বাসিন্দাই লাতিনো সম্প্রদায়ের।

কেউ কেউ মনে করেন, যে সংস্থার ওপর তাদের আস্থা নেই, তাকে সুবিধা দিয়ে শহরে আসার কারণ তৈরি করা উচিত নয়। বিশেষ করে মুখোশ পরা ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি অভিবাসী ও নাগরিক উভয়ের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পুলিশ বিভাগের এক ক্যাপ্টেন জানান, ২০২৪ সালে আইসিইর সঙ্গে স্বাক্ষরিত এবং চলতি বছরে নবায়ন করা চুক্তির আওতায় এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যদিও আইসিই এক দশকের বেশি সময় ধরে শহরের কেন্দ্রের বাইরে অবস্থিত উন্মুক্ত রেঞ্জে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে। চুক্তি অনুযায়ী, সান ডিয়েগো শাখার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ইউনিটের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় শহরটি বছরে ২২ হাজার ৫০০ ডলার করে সর্বোচ্চ তিন বছর অর্থ পাবে। এই ইউনিট মানবপাচার ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ তদন্ত করে।

ক্যাপ্টেন বলেন, তারা আইসিইর সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ দেন না এবং তাদের প্রশিক্ষণও পরিচালনা করেন না। মোট ২২টি সংস্থা ওই রেঞ্জ ব্যবহার করে এবং প্রত্যেকেই নিজস্ব রেঞ্জ মাস্টার, লক্ষ্যবস্তু ও গোলাবারুদ নিয়ে আসে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, যা আইসিই তদারকি করে, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে কর্মকর্তারা কোথায় প্রশিক্ষণ নেন তা নিশ্চিত করেনি। তবে বিভিন্ন কমিউনিটির চাপে এসব স্থানের তথ্য সামনে আসছে।

মিনেসোটার কটেজ গ্রোভ শহরেও আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহারের চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে। কিন্তু মেয়র এক বিবৃতিতে জানান, রাজ্য বন্ডের অর্থে নির্মিত কেন্দ্রটি প্রায় ৬০টি আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও অন্যান্য গোষ্ঠীর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, যার মধ্যে আইসিইও রয়েছে। চুক্তিগতভাবে কোনো সরকারি সংস্থার সঙ্গে বৈষম্য করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিউইয়র্কের আইসলিপে গত বছর স্থানীয় বাসিন্দারা রাইফেল রেঞ্জ ব্যবহারের পুরোনো চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু স্থানীয় সরকার সেটি বহাল রাখে। অন্যদিকে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড শহর আইসিই কর্মীদের জন্য শহর মালিকানাধীন পার্কিং লট ব্যবহারের চুক্তি বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এসকন্ডিডোতেও সবাই চুক্তির বিপক্ষে নন। এক তরুণ বাসিন্দা বলেন, এই সুবিধা দেওয়া হবে কি না তা পুলিশের বিবেচনায় থাকা উচিত এবং এতে শহরের রাজস্ব আসছে। আবার মেক্সিকো থেকে আসা এক বাসিন্দা, যিনি বহিষ্কারের আশঙ্কায় নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন গান রেঞ্জ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও অভিবাসীদের জন্য ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে না। তাঁর ভাষায়, তারা আসতে চাইলে আসবেই।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed