হলিউডের জনপ্রিয় এক অভিনেতা অস্কারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় সৃষ্টি হয়েছিল নানা জল্পনা। শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় তিনি অবস্থান করছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অস্কার অনুষ্ঠানে পল টমাস অ্যান্ডারসনের পরিচালিত ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন এই অভিনেতা। ছবিতে কর্নেল লকজ চরিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায় এবং সেটিই তাঁকে এই সম্মান এনে দেয়। তবে এত বড় অর্জনের মুহূর্তেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না পুরস্কার গ্রহণের মঞ্চে।
অভিনেতার অনুপস্থিতিতে তাঁর হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন আরেক হলিউড অভিনেতা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিজয়ী অভিনেতা অনুষ্ঠানে আসেননি কিংবা আসতে চাননি। এ মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অস্কার অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তাঁকে ওই অভিনেতার সঙ্গে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি অভিনেতাকে ইউক্রেনের ‘সত্যিকারের বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই এই অভিনেতা ইউক্রেনের পাশে রয়েছেন এবং এখনো সেই অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।
প্রেসিডেন্ট তাঁর বার্তায় আরও জানান, আন্তর্জাতিক পরিসরে ইউক্রেনের পক্ষে যে কজন দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই অভিনেতা অন্যতম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং ইউক্রেনের জনগণের পাশে তিনি থাকবেন।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই অভিনেতা দেশটির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার দেশটি সফর করেছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়েছে। তাঁর কাজ কেবল বিনোদন জগতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানবিক সংকট ও বৈশ্বিক ইস্যুতেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, অভিনয়, চলচ্চিত্র নির্মাণ কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ড—সবকিছুই তাঁর কাছে একই দায়িত্ববোধের অংশ। তাঁর মতে, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার পেছনে মূল লক্ষ্য থাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
তিনি আরও বলেন, কখনো তিনি সিনেমার সেটে কাজ করেন, কখনো ব্যক্তিগতভাবে সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকেন, আবার কখনো মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন। এসব ভিন্ন ভিন্ন কাজের মধ্যেও তিনি একটি সাধারণ উদ্দেশ্য খুঁজে পান, আর সেটি হলো মানুষের জন্য কিছু ভালো করা।
অস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁর কাছে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনাকে অনেকেই একজন শিল্পীর সামাজিক দায়িত্ববোধের শক্ত উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।





Add comment