মৃত্যুর ৫২ বছর পর নিউইয়র্কে বাংলার লোকসঙ্গীত সম্রাট আব্দুল আলীমকে ঘিরে বসেছিল এক মহামিলন মেলা| তাঁর স্মৃতিময় গানগুলো দর্শক শ্রোতাদের আবার জাগিয়ে তুলেছে| ‘হলুদিয়া পাখি সোনালী বরণ’ ‘দুয়ারে আয়সাছে পালকি’ ‘পদ্মার ঢেউরে’ ‘মাঝি বাইয়া যাওরে’ এমন হাজারো হৃদয় ছুঁয়া গানের মরমি শিল্পী আব্দুল আলীমকে নিয়ে নিউইয়র্কে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন একটি সংগঠনের| বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যাদিয়ে ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’ নামে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে গত ৩১ মে থেকে| জ্যামাইকার একটি পার্টি হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিল্পীর গান ও জীবনকর্ম বাংলাদেশী-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’ গঠন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন| সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সাংবাদিক বেলাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক শিল্পীর কন্যা জোহরা আলীম| জোহরা আলীম শুরুতে তার পিতার গাওয়া বিখ্যাত গান ‘মাঝি বাইয়া যাওরে’ পরিবেশন করেন| এর পর তিনি আব্দুল আলীমের গাওয়া অনেকগুলি জনপ্রিয় গান উপস্থাপন করেন| ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’-এর সভাপতি বেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শাহ নেওয়াজ গ্রুপের কর্ণধার লায়ন শাহ নেওয়াজ| বিশেষ অতিথি ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সঙ্গীত শিল্পী রানো নেওয়াজ| অনুষ্ঠানে শিল্পী শিমুল খান তার মায়ের জনপ্রিয় গান ছাড়াও আব্দুল আলিমের গাওয়া গান গেয়ে শুনান| শিল্পীদের গাওয়া প্রতিটি গানই উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং বিমোহিত হয়ে তাঁরা সঙ্গীত সন্ধ্যা উপভোগ করেন|
অবিভক্ত বাংলার সময়কালে, বাংলা লোকসঙ্গীত শহুরেদের মধ্যে দুই মাস্টার- শচীন দেব বর্মণ এবং আব্বাসউদ্দিন আহমেদ শিল্পী আবদুল আলীমকে নিয়ে লোকসঙ্গীতকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করেছিলেন| লোকসঙ্গীতের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা আবদুল আলীমকে হারানোর পরে ৫২ বছর কেটে গেছে| ১৯৭৪ সালে বহুমুখী প্রতিভাবান শিল্পী ৫২ বছর বয়সে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মারা যান| তাঁর জন্মগত সুরেলা ও বহুমুখী কণ্ঠ¯^র সমগ্র পূর্ববর্তী পাকিস্তানে এবং চলচ্চিত্র শিল্পেও বাংলা লোকসঙ্গীত প্রতিষ্ঠা করেছিল|
ষাটের দশকের গোড়ার দিক থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত একটি সময় ছিল যখন বাংলার এই অংশে নির্মিত প্রায় সমস্ত বাংলা ছবিতে আবশ্যিকভাবে আবদুল আলীমের অন্তত একটি গান অন্তর্ভুক্ত ছিল| যদিও এসডি বর্মণ এবং আব্বাসউদ্দিন নিঃসন্দেহে আধুনিক বাংলা লোকসঙ্গীতের পথিকৃৎ ছিলেন| তবে আবদুল আলীমই লোকসঙ্গীতগুলিতে সুর প্রবেশ করিয়েছিলেন যার ফলে সেগুলি মানুষের মধ্যে আরও আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় করে তুলেছিল|
নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আহসান হাবীবের সঞ্চালনায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নাসির খান পল, সিনিয়র সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, সঙ্গীত শিল্পী বিপ্লব প্রমুখ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন| অনুষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী জোহরা আলীম নুপুর ও শিমুল খান সঙ্গীত পরিবেশন করেন| মিলনায়তন ভর্তি বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন|





Add comment