Wednesday, February 4, 2026
spot_img
Homeঅন্যান্য৯০ বছর বয়সে গ্র্যামির ইতিহাস

৯০ বছর বয়সে গ্র্যামির ইতিহাস

বিশ্ব সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে এবার এক ব্যতিক্রমী অর্জনের সাক্ষী হলো বিশ্ব। তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আধ্যাত্মিক নেতা ৯০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো গ্র্যামি জিতে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। স্পোকেন ওয়ার্ড অ্যালবাম ‘মেডিটেশনস: দ্য রিফ্লেকশন অব হিস হলিনেস অব দ্য দালাই লামা’র জন্য এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ক্রিপ্টো অ্যারিনায় অনুষ্ঠিত গ্র্যামির ৬৮তম আসরে আজ সকালে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়, যেখানে তাঁর নাম উঠে আসে সম্মানজনক বিভাগে।

এই অ্যালবামটি সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন ও স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে। একই বিভাগে তাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত লেখক ও বক্তা, জনপ্রিয় কমেডিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিচারপতিসহ আরও কয়েকজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। কঠিন এই প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন তাঁর কাজের গভীরতা ও বৈশ্বিক প্রভাবেরই স্বীকৃতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অডিও প্রজেক্টে সংগীত ও বাণীর এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। এতে সহযোগিতা করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় সারোদ শিল্পী এবং তাঁর দুই সংগীতজ্ঞ পুত্র। ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের আবহে আধ্যাত্মিক বাণীকে উপস্থাপন করে অ্যালবামটি এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। এতে শান্তি, সহমর্মিতা, দয়া, আশা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো মানবিক মূল্যবোধগুলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মননশীল ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যালবামটির মূল আকর্ষণ এর বর্ণনাভঙ্গি। এতে আধ্যাত্মিক নেতার কণ্ঠে শোনা যায় ধ্যান, মানবিক দায়িত্ববোধ ও বৈশ্বিক শান্তির আহ্বান। সংগীতের মেলবন্ধনে এই বার্তাগুলো শ্রোতার মনে এক ধরনের প্রশান্তি ও চিন্তাশীলতার আবহ তৈরি করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল একটি অডিও অ্যালবাম নয়; বরং একটি দর্শন ও জীবনবোধের প্রকাশ।

গ্র্যামি পুরস্কার গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় আধ্যাত্মিক নেতা জানিয়েছেন, তিনি এই সম্মান গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। তবে একে তিনি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, এই পুরস্কার আসলে বিশ্বব্যাপী শান্তি, মানবিক সহমর্মিতা, পারস্পরিক ঐক্য এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বের প্রতি একটি সম্মিলিত স্বীকৃতি। তিনি মনে করেন, এই স্বীকৃতি মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে অনুপ্রাণিত করবে।

তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যালবামটির বিষয়বস্তু মূলত বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তৃতা ও শিক্ষার সারাংশ থেকে নেওয়া। সেখানে মানুষের কল্যাণ, নৈতিকতা, সহানুভূতি এবং পৃথিবীর সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক রেকর্ড লেবেলের সহযোগিতায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পীর অংশগ্রহণে এই অ্যালবামটি তৈরি করা হয়, যা এটিকে বৈশ্বিক চরিত্র দিয়েছে।

এই প্রকল্পে যুক্ত ভারতীয় সারোদ শিল্পী এক বিবৃতিতে জানান, এটি ছিল আধ্যাত্মিক নেতার শিক্ষায় অনুপ্রাণিত একটি গভীরভাবে ব্যক্তিগত কাজ। শান্তি ও আশার বার্তা বহনকারী এই সংগীত অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের জীবন ও শিল্পীসত্তাকেও সমৃদ্ধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এমন একটি প্রকল্পের অংশ হতে পারা নিঃসন্দেহে বিরল সম্মানের।

৯০ বছর বয়সে এসে গ্র্যামির মতো একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন প্রমাণ করে, বয়স সৃষ্টিশীলতার পথে কখনোই বাধা নয়। বরং অভিজ্ঞতা, দর্শন ও মানবিক উপলব্ধি সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও সংগীত যে একসঙ্গে বিশ্বব্যাপী মানুষের হৃদয়ে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে পারে, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments