ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে খনিশ্রমিকদের বহনকারী একটি বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। রোববার দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের জ্বালানিখাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা এক বার্তায় জানান, দিনিপ্রো অঞ্চলে জ্বালানি খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ও নিন্দনীয় হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে খনিতে কর্মরত অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তেরনিভস্কা শহরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো হামলার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে প্রকাশ করে। সেই ফুটেজে দেখা যায়, ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর একটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে আছে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ ও পোড়া অংশ, যা হামলার তীব্রতা স্পষ্ট করে।
দেশটির অন্যতম বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে জানায়, হতাহত সবাই তাদের কর্মী। তারা কাজ শেষে খনি এলাকা থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার পথে ছিলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, নিরীহ কর্মীদের লক্ষ্য করে এমন হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতি লঙ্ঘনের শামিল।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের আরেক শহরে নতুন হামলার খবর পাওয়া যায়। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, জাপোরিঝিয়া শহরে একটি মাতৃসদন ও একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার হামলায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। বেসামরিক স্থাপনায় এমন আক্রমণ দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
এমন এক সময়ে এই হামলাগুলোর খবর এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বলেন, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই দীর্ঘ সংঘাতে ইউক্রেনের বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়া নতুন করে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে চলতি শীতে দেশটির সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে এমন হামলা ইউক্রেনের অর্থনীতি ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার আগে এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ড্রোন হামলায় বাসে থাকা খনিশ্রমিকদের প্রাণহানির ঘটনায় ইউক্রেনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার ও সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দেশজুড়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, কবে শেষ হবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং কবে ফিরবে শান্তি।



