Wednesday, February 4, 2026
spot_img
Homeপ্রযুক্তি জগৎপৃথিবীর মতো গ্রহ খুঁজে পেল নাসা

পৃথিবীর মতো গ্রহ খুঁজে পেল নাসা

মহাবিশ্বে মানবজাতি একা কি না?এই প্রশ্ন যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সম্প্রতি পৃথিবীর সঙ্গে গঠনগত মিল থাকা একটি ভিনগ্রহের সন্ধান পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্রহটি প্রাণ ধারণের উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবিষ্কৃত গ্রহটির নাম এইচডি ১৩৭০১০ বি। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। গ্রহটি তার মূল নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলের একেবারে শেষ সীমায় অবস্থান করছে। সাধারণভাবে কোনো নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চল বলতে সেই এলাকা বোঝানো হয়, যেখানে তাপমাত্রা এমন হতে পারে যে গ্রহের পৃষ্ঠে তরল পানি টিকে থাকার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহটির ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করা যাচ্ছে না।

নাসা জানিয়েছে, গ্রহটির মূল নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এটি সূর্যের তুলনায় অপেক্ষাকৃত শীতল এবং কম উজ্জ্বল। এর ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হতে পারে প্রায় মাইনাস ৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তুলনামূলকভাবে আমাদের সৌরজগতের মঙ্গল গ্রহের গড় তাপমাত্রা মাইনাস ৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। সে হিসেবে নতুন এই গ্রহটি অত্যন্ত শীতল পরিবেশের হলেও সেখানে বিশেষ ধরনের জীবন বা অভিযোজিত প্রাণের অস্তিত্ব থাকা একেবারে অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

এই গ্রহটির সন্ধান মিলেছে নাসার বহুল পরিচিত কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের কে২ মিশন থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, গ্রহটি যখন তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন নক্ষত্রের আলোয় সামান্য পরিবর্তন ধরা পড়ে। সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা গ্রহটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন। যদিও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ট্রানজিট বা অতিক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, তবুও সেটির ভিত্তিতে গ্রহটির কক্ষপথসংক্রান্ত সময়কাল সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব হয়েছে।

নাসার বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, এই গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ পৃথিবীর তুলনায় বেশি হতে পারে। তবে তার মানে এই নয় যে সেখানে নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ বা জলজ অবস্থার সম্ভাবনা পুরোপুরি নেই। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, উপযুক্ত বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি থাকলে এমন গ্রহেও তরল পানির অস্তিত্ব বজায় থাকতে পারে, যা প্রাণের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

গ্রহটির কক্ষপথ সম্পর্কিত তথ্যও গবেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। যেখানে পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন সময় নেয়, সেখানে এই গ্রহটি মাত্র ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যেই তার নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে। এত স্বল্প সময়ে কক্ষপথ শেষ হওয়ায় গ্রহটির আবহাওয়া ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর তুলনায় ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই গ্রহটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। নাসার পাশাপাশি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার কিওপস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এর বায়ুমণ্ডল, গঠন এবং সম্ভাব্য বাসযোগ্যতা সম্পর্কে আরও গভীর বিশ্লেষণ চালানো হতে পারে। গবেষকেরা আশা করছেন, এই পর্যবেক্ষণগুলো মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব সংক্রান্ত গবেষণাকে নতুন মাত্রা দেবে এবং মানুষের দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তরের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments