২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র প্রকাশিত হয়েছে। কোন দল কোন গ্রুপে জায়গা পেল, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা, সবই এখন স্পষ্ট। বাকি অপেক্ষা কেবল ফুটবলের মহামঞ্চে সেই লড়াই দেখার। এদিকে এবারের বিশ্বকাপে বাড়তি উত্তেজনার যোগ হয়েছে দলসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়। পূর্বের ৩২ দল থেকে এবার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮। অনেকে ভেবেছিলেন এতে গ্রুপ পর্বের প্রতিযোগিতায় উত্তেজনা কমে যেতে পারে। বাস্তবে তা কিছুটা হলেও কমতে পারে, তবে এর মধ্যেও এমন কিছু ম্যাচ রয়েছে যা শুরু থেকেই টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চ বাড়িয়ে তুলবে। ড্রয়ের ভিত্তিতে অন্তত সাতটি গ্রুপ ম্যাচ আগেই নজর কাড়ছে এবং ফুটবলপ্রেমীরা দিনক্ষণ টুকে রাখার মতোই তা আকর্ষণীয়।
ফ্রান্স বনাম নরওয়ে: দুই ফরোয়ার্ডের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই
সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ম্যাচ বলা যায় এই লড়াইকে। গ্রুপ আই তে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও নরওয়ে। দুই দলের আক্রমণভাগে আছেন দুই সুপারস্টার ফরোয়ার্ড, যাদের বর্তমান প্রজন্মের সেরা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। নরওয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ২৮ বছর পর ফিরেছে বিশ্বকাপে। দলের প্রধান ফরোয়ার্ডের জন্য এটি হবে প্রথম বিশ্বকাপ। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রধান স্ট্রাইকার ইতোমধ্যে বিশ্বকাপজয়ী এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুই তারার মুখোমুখি লড়াই গোলউৎসবের সম্ভাবনা তৈরি করছে এবং ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
স্পেন বনাম উরুগুয়ে: দুই দর্শনের সংঘর্ষ
গ্রুপ এইচ এ মুখোমুখি হচ্ছে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। স্পেনের পাসিং নির্ভর দৃষ্টিনন্দন ফুটবল ও উরুগুয়ের ঐতিহ্যবাহী লড়াকু মানসিকতা একসঙ্গে জমে উঠতে পারে টানটান উত্তেজনায়। স্পেনের বর্তমান কোচের অধীনে দলটি গত কয়েক মৌসুমে দারুণ ছন্দে রয়েছে। বিপরীতে উরুগুয়ের খেলোয়াড়রা সবসময়ই মাঠে তুলে ধরেন অদম্য লড়াইয়ের পরিচয়। দুই ধরণের ফুটবলের সংঘাত ম্যাচটিকে করবে আরও আকর্ষণীয়।
পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া: দুই জাদুকরের শেষ সুযোগ
গ্রুপ কে তে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও কলম্বিয়া। বিশ্বকাপে কলম্বিয়া সবসময়ই দর্শকপ্রিয় ফুটবল উপহার দেয়। এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে পর্তুগাল, যার নেতৃত্বে মাঠে থাকবেন দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে কলম্বিয়ার প্রধান প্লেমেকারও বড় তারকা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসেই। অনেকের মতে এই বিশ্বকাপ হতে পারে দুজনেরই শেষ মঞ্চ। তাই তাদের ব্যক্তিগত ছন্দ ও দলের পারফরম্যান্স মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়।
ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া: কঠিন পরীক্ষায় টুখেলের দল
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাস মানেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ। এবার তাদের নেতৃত্বে আছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম কৌশলী কোচ। বাছাইপর্বে দারুণ লড়াই উপহার দিয়ে ইংল্যান্ড নিজেদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে গ্রুপে বড় বাধা হতে পারে ক্রোয়েশিয়া। সাম্প্রতিক দুই বিশ্বকাপে তারা প্রথমে রানার্স আপ এবং পরে তৃতীয় হয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। এই ম্যাচটিই ইংল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে।
ব্রাজিল বনাম মরক্কো: শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন
মরক্কো বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের উদীয়মান শক্তি। ২০২২ সালে বিশ্বকে চমকে দিয়ে তারা চতুর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে ব্রাজিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল হলেও বহু বছর ধরে ট্রফির সামনে গিয়ে থেমে যাচ্ছে। নতুন কোচকে দায়িত্ব দিয়ে তারা এবার নতুন করে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। তবে গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নামা কঠিন চ্যালেঞ্জই হবে ব্রাজিলের।
ফ্রান্স বনাম সেনেগাল: দুই দশকের পুরনো স্মৃতি
২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল সেনেগাল। সেই ম্যাচ এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে স্মরণীয়। দীর্ঘ ২৪ বছর পর ফ্রান্সের সামনে সুযোগ এসেছে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার। তবে সেনেগাল যে সহজ প্রতিপক্ষ হবে না তা নিশ্চিত।
জার্মানি বনাম ইকুয়েডর: চারবারের চ্যাম্পিয়নের সামনে কঠিন বাধা
জার্মানি সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে, যা তাদের চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পরিচয়ের সঙ্গে যায় না। এবারও গ্রুপে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে হাই ভোল্টেজ লড়াই। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সেরা রক্ষণের দল ইকুয়েডর জার্মানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০০৬ সালে দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল, যেখানে জার্মানি জিতেছিল সহজ ব্যবধানে। তবে সময় বদলে গেছে এবং সেই বাস্তবতাই ম্যাচটিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।



