Thursday, January 1, 2026
spot_img
Homeসম্পাদকীয়শিশুদারিদ্র্য মোকাবিলায় নতুন পথে সরকার

শিশুদারিদ্র্য মোকাবিলায় নতুন পথে সরকার

সরকারের বহু প্রতীক্ষিত শিশুদারিদ্র্য হ্রাস কৌশল শুক্রবার প্রকাশিত হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা ম্লান মনে হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি আগেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল গত মাসের বাজেটে, যা উপস্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। দুই-সন্তান সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত, যা তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের জন্য ভাতা দাবি নিষিদ্ধ করেছিল, বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার শিশুকে দারিদ্র্য থেকে উত্তোলন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এটি এখন পর্যন্ত সরকারের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী যথার্থভাবেই উল্লেখ করেছেন যে সীমিত সুযোগ ও সংকুচিত সম্ভাবনা শুধু আক্রান্ত পরিবারগুলোর নয়, পুরো সমাজের জন্যই বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুদের মৌলিক প্রয়োজন, যথেষ্ট খাবার বা নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত না হওয়ার মতো কঠিন বাস্তবতা বহু পরিবারেই দৈনন্দিন ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে রেকর্ড চার দশমিক পাঁচ মিলিয়ন শিশু দারিদ্র্যে বসবাস করছে এবং তার মধ্যে দুই মিলিয়ন রয়েছে গভীর ভৌত দারিদ্র্যে, যেখানে প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্কটল্যান্ডে নতুন শিশু ভাতা চালুর ফলে সেখানে আয়ভিত্তিক সুরক্ষা এক ভিন্ন গতিপথে এগোচ্ছে, ফলে যুক্তরাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইংল্যান্ডে বিনামূল্যে স্কুল মিল সম্প্রসারণ প্রায় এক লাখ শিশুকে দারিদ্র্যের সীমা অতিক্রম করতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও নতুন কৌশলের অন্য কোনো উদ্যোগ এই পদক্ষেপ বা দুই-সন্তান সীমা বাতিলের সমান প্রভাব ফেলতে পারবে না, তথাপি পুরো নথিটি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে। প্রথমত, এটি বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যকে সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে। ১৯৭৪ সালে উইলসন সরকারের সময় থেকে শুরু করে প্রত্যেক লেবার প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে শিশুদারিদ্র্য কমেছে। বিপরীতে কনজারভেটিভদের শাসনামলে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের কৌশল ব্লেয়ারের শিশুদারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতির মতো উচ্চাভিলাষী নয়, তবুও এটি প্রমাণ করে যে দারিদ্র্য কমাতে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার যথেষ্ট দৃঢ়।

দ্বিতীয়ত, কিছু পদক্ষেপ হয়তো সামগ্রিক পরিসংখ্যানে বড় পরিবর্তন আনবে না, তবে সরাসরি বহু পরিবারকে স্বস্তি দিতে পারে। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিশু থাকা পরিবার জরুরি ভিত্তিতে বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট ধরনের অস্থায়ী আবাসনে আটকে আছে, যা একটি দেশের জন্য লজ্জাজনক বাস্তবতা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এসব পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তার উদ্দেশ্যে আট মিলিয়ন পাউন্ডের পাইলট প্রকল্প খুব বড় অঙ্ক না হলেও এটি সঠিক দিকের পদক্ষেপ। সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি এবং বেসরকারি ভাড়াবাড়ির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক বৈষম্য তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে যে তারা জনগণের কথা শোনার সক্ষমতা রাখে। একইভাবে শিশু দেখাশোনার ব্যয় পরিশোধের নিয়ম সহজ করা হয়েছে, যা ভাতা গ্রহণকারীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

তবুও সামগ্রিক সুবিধাব্যবস্থায় গভীর বৈষম্য রয়ে গেছে। ভাতা সীমা এবং স্থবির স্থানীয় আবাসন ভাতা, যা ভাড়ার তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের আয়ে তীব্র প্রভাব ফেলছে। দুই-সন্তান সীমা বাতিল হওয়ার পর এখন দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে এই অন্যান্য বৈষম্যমূলক অংশগুলোর দিকে। জরিপে দেখা যায়, জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি এ বিষয়ে পরিবর্তনশীল হলেও অধিকাংশই শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে। সমাজজুড়ে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণা যেমন ভাতার ব্যয় নাকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কিংবা কর্মক্ষম মানুষ কাজ এড়িয়ে চলে এই ধরনের অভিযোগ বাস্তবে পরিসংখ্যানের সঙ্গে মেলে না। কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ভাতায় ব্যয় স্থিতিশীল রয়েছে এবং দারিদ্র্যচক্রে থাকা শিশুদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশেরই কমপক্ষে একজন অভিভাবক কর্মরত।

সরকারকে এসব ভুল ধারণার বিরুদ্ধে আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিতে হবে। শিশুদারিদ্র্য মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য আবারও একটি আনুষ্ঠানিক কৌশল পেয়েছে, যা সরকারের জন্য গর্বের বিষয়। এবার এটিকে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নেওয়াই হবে প্রকৃত সাফল্যের পথ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments