রাশিয়া এবং ইউক্রেনের চার বছর পেরিয়ে যাওয়া যুদ্ধ থামাতে রুশ প্রেসিডেন্টের কোনো আগ্রহ নেই বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন পক্ষ থেকে নানা তোষামোদ এবং দীর্ঘ আলোচনার পরও রুশ নেতৃত্ব সমঝোতার পথে এগোয়নি। বরং এই আলোচনাগুলোকে রুশ প্রেসিডেন্ট নিজের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন বলেই স্পষ্ট হচ্ছে।
সম্প্রতি মস্কোয় পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দীর্ঘ আলোচনার পরও তাঁদের হাতে কোনো অগ্রগতি ছিল না। তাঁদেরকে কার্যত খালি হাতেই ফিরে আসতে হয়। এতে পরিষ্কার যে রাশিয়া এখনো কোনো শান্তিচুক্তিতে রাজি হওয়ার মতো অবস্থানে নেই বা হতে চায় না।
যুদ্ধের শুরুতে রুশ নেতৃত্বের ধারণা ছিল খুব দ্রুত ইউক্রেনকে দমিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নানা সমালোচনার মুখে ছিল। কিন্তু রুশ প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো দ্রুত কিয়েভের পাশে দাঁড়ায়। পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন বেশ কয়েকটি কৌশলগত সাফল্যও অর্জন করে, যা রাশিয়ার পরিকল্পনাকে জটিল করে তোলে।
পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর। নতুন প্রশাসন যুদ্ধ থামানোর জন্য অস্বাভাবিকভাবে তৎপর হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই নয় এবং আর কোনো অর্থ ব্যয় করতে তিনি আগ্রহী নন। এভাবে রাশিয়ার কাছে শান্তিচুক্তির জন্য মার্কিন অনুরোধ পৌঁছানো রুশ প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে ততই মস্কোর স্বার্থ রক্ষা পাবে।
শান্তিচুক্তির যে সম্ভাবনা উঠে এসেছিল তা দ্রুতই অনিশ্চয়তায় ঢেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত সময়সীমা এখন বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট প্রথমে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, এরপর আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দৃষ্টি দেবেন। এই চক্রটি কত দীর্ঘ চলবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত নেই।
রুশ প্রেসিডেন্টকে একজন বাস্তববাদী ও পরিস্থিতি বোঝার দক্ষ নেতা মনে করা হয়। তিনি সুযোগ-সুবিধা ও বাধাবিপত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাঁর বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক লক্ষ্যও পরিষ্কার। বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা এখন তাঁর বড় লক্ষ্যগুলোর একটি। নিজের ক্ষমতাও এই সংঘাতকে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি দিচ্ছে।
ইউক্রেনে ধীরগতিতে হলেও রাশিয়া সামরিক অগ্রগতি পাচ্ছে। ইউক্রেনের সেনা ও তহবিল সংকট বেড়েছে এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এসব অবস্থায় কোনো চুক্তি না হলেও শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার পূর্ণ বিজয়ের সম্ভাবনাই বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছেন।



