মাত্র এক ছেলের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এক পরিবারের সব আশা। ভালোভাবে পড়াশোনা করবে, একদিন বড় চাকরি পাবে, সংসারের হাল ধরবে—এমনই ভবিষ্যৎ কল্পনা করতেন তার মা। কিন্তু এক মুহূর্তেই সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এখন এই মা ভাবছেন, কীভাবে তিনি এগিয়ে যাবেন; কীভাবে ভুলে থাকবেন সেই ছেলেকে, যাকে ঘিরেই ছিল তাঁর জীবন।
গতকাল সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, বদলকোট উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। একই দুর্ঘটনায় আরও দুই সহপাঠীর মৃত্যু ঘটে। চার বন্ধুই একই গ্রামের, একই ক্লাসের, আর একই স্বপ্নের পথযাত্রী ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা সবাই এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার চাপ, পড়াশোনা আর কৈশোরের উচ্ছ্বাস মিশে সেই রাতে তারা বের হয়েছিল মোটরসাইকেল নিয়ে। চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে, আর মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তিনটি জীবনের সম্ভাবনা। যে একজন বেঁচে গেছে, সে নিজেও বলছে ভাগ্য না থাকলে সেদিন তারাও কেউ ফিরত না।
তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সংবাদে পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। গ্রামের এক কোণে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে কান্নার শব্দ থামছেই না। একজন নির্মাণশ্রমিক বাবার কাঁধ নুয়ে গেছে দুঃখে। ঘরের ভেতরে খাটে বসে সন্তান হারানো এক মা বারবারই বলছিলেন একই কথা, চা খেতে গিয়ে আর ফিরল না তার ছেলে। শেষ কথাটাও বলা হয়নি তাদের।
একই দৃশ্য দেখা যায় অন্য দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতেও। পড়ার টেবিলে খোলা খাতা, সাজানো বই, অসমাপ্ত স্বপ্ন—সবই যেন তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা এসব সরিয়ে রাখছেন; কারণ বইগুলো দেখলেই বুক ভেঙে আসে।
এক অভিভাবক বললেন, পরীক্ষার পর থেকে ছেলে নিয়মিত পড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়, আর ফিরে আসে নীরব দেহ হয়ে। আরেকজন সহপাঠী জানায়, চালকের বেপরোয়া গতি আর মুহূর্তের ভুলই কেড়ে নিয়েছে তার বন্ধুদের জীবন।
হাসিখুশি চার কিশোরের মধ্যে তিনজন আজ নেই। রেখে গেছে হাহাকার, স্তব্ধতা, আর শূন্যতা—যা কোনো পরিবারের জন্যই পূরণ করা অসম্ভব।



