বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শুভেচ্ছা ও দ্রুত আরোগ্য কামনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠি গতকাল শনিবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়। ইংরেজিতে লেখা এই চিঠিটির তারিখ ২৮ নভেম্বর, যা ব্যক্তিগত শুভকামনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তাও বহন করে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত রোববার দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই করোনারি কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে এবং দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বুধবার থেকে টানা কয়েকদিন তিনি প্রায় সাড়া দিচ্ছিলেন না। শারীরিক অবস্থার অবনতি বিশেষত কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে তাঁকে টানা চার দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়েছে। গত তিন দিনের তুলনায় গতকাল শনিবার তাঁর অবস্থায় সামান্য অগ্রগতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নতি ধীরগতির হলেও চিকিৎসা প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি বিএনপির নেতাকর্মীসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছেও নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন যে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর জেনে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছেন। পাকিস্তানের জনগণ, সরকার এবং তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবদানকে তিনি সর্বত্র স্বীকৃত বলে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়া যে ভূমিকা রেখেছেন, তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তিনি আবারও তাঁর দল ও দেশের মানুষের জন্য শক্তি এবং দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবেন।
চিঠির শেষাংশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সম্পূর্ণ সুস্থতা প্রত্যাশা করেন। রাজনৈতিক মহলে এই চিঠিকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি মানবিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত এমন সময় যখন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার সামান্য অগ্রগতি দলীয় নেতাকর্মীদের কিছুটা আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সংকটপূর্ণ এই সময় আরও নজরদারি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। সর্বত্র এখন তাঁর শারীরিক উন্নতির জন্য দোয়া ও কামনা চলছে।



