নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো আমেরিকান বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ইউএসএ ইনকের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। গত ২৪ নভেম্বর সোমবার ব্রঙ্কসের বাংলাবাজারে গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়তনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ছিল প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল এবং ব্যাপক অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ।
অনুষ্ঠানের পুরো সময়টিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি। যৌথভাবে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক। আয়োজন বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কারীর পাশাপাশি ছিলেন আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব, যাঁদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
দিনব্যাপী এই অভিষেক আয়োজনে ছিল দোয়া ও মোনাজাত, শপথ বাক্য পাঠ, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রবাসী কমিউনিটির উদ্দেশে বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য।
জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একজন খ্যাতিমান এটর্নি। নিউইয়র্ক স্টেট সেনেটের একজন সিনেটরসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেন। কমিউনিটির বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখরা এ আয়োজনে অংশ নিয়ে নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দোয়া পরিচালনা করেন একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। পরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা উপস্থিতদের মাঝে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে।
পরে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান অতিথি এটর্নি। এই শপথ গ্রহন পর্বে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সেবা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী নবনির্বাচিত কমিটিতে দায়িত্ব পেয়েছেন সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি, সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সহ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, শিক্ষা সম্পাদক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, মহিলা সম্পাদিকা এবং সদস্য পদগুলোতে মোটাধিক ব্যক্তি। এদের প্রত্যেকে আমেরিকান বাংলাদেশী কমিউনিটির উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। প্রবাসী জীবনে কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের এ স্বীকৃতি উপস্থিতদের মধ্যে প্রশংসা কুড়ায়।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জনপ্রিয় দুই শিল্পীর পরিবেশনায় মিলনায়তন জমে ওঠে। সঙ্গীত পরিবেশনায় দর্শকরা গভীরভাবে আনন্দ উপভোগ করেন এবং শিল্পীদের সাফল্য কামনা করেন।
এই বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠান প্রবাসী বাংলাদেশীদের একতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার একটি উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপস্থিতরা। কমিউনিটির সংস্কৃতি, কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নে এ সংগঠনের পদক্ষেপ প্রবাসজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।



