বিএনপি চেয়ারপারসনের অবনতিশীল শারীরিক অবস্থার কারণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন বলে বিভিন্ন দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও তাঁর ফেরার নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর রাখছেন, তাঁদের মাঝে উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে।
লন্ডনে অবস্থান করা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও মায়ের শারীরিক অবস্থার প্রতি নিবিড় নজর রাখছেন। তাঁর সহধর্মিণী, যিনি চিকিৎসা বোর্ডের একজন সদস্য, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এ ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরাও হাসপাতালে উপস্থিত আছেন এবং নিবিড়ভাবে চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
গতকাল বিকেলে মহাসচিব হাসপাতালে গিয়ে চেয়ারপারসনের খোঁজ নেন। রাতে আবারও তিনি সেখানে যান এবং তাঁর সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকায় দলের ভেতরে আলোচনায় আসছে যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিগগিরই দেশে ফিরতে পারেন।
আগামী ডিসেম্বরের শুরুতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফেরার সম্ভাব্য সময় নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। উচ্চপর্যায়ের এক নেতা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা ছিল। দেশে এসে তিনি ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন বলেও ওই নেতা জানান।
এদিকে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রায় সতেরো বছর পর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বাসভবন সংস্কার, অফিস প্রস্তুতকরণসহ সব ধরনের ব্যবস্থা আগেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর নিকটজনরা বলেছেন, আগে পরিকল্পনা ছিল প্রথমে সৌদি আরবে ওমরা পালন করে এরপর লন্ডন থেকে সরাসরি ঢাকায় ফেরার। তবে হঠাৎ মায়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে।
দলের ভেতরে এখন মূল আলোচনা এই যে, সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন থাকলেও চেয়ারপারসনের সংকটজনক অসুস্থতা তাঁকে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরতে বাধ্য করতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক পরিস্থিতি রাজনৈতিক পরিকল্পনার ওপর অগ্রাধিকার পেতে পারে এবং যেকোনো মুহূর্তে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।



