বাড়ছে হামের প্রকোপ বৈশ্বিক টিকাগ্রহণে বড় সতর্কতা

বিশ্বব্যাপী হামের সংক্রমণ যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তা টিকায় প্রতিরোধযোগ্য অন্যান্য রোগের সম্ভাব্য বিস্তারের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার ইমিউনাইজেশন, ভ্যাকসিন ও বায়োলজিক্যালস বিভাগের পরিচালক এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, হাম এমন একটি রোগ যা অতি দ্রুত ছড়ায় এবং সামান্য টিকাকভারেজের ঘাটতিতেও বড় আকারের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, টিকাদানে ফাঁক তৈরি হলে হাম প্রথমেই ধরা পড়ে, ঠিক যেন ধোঁয়া উঠলে আগুনের সতর্কসংকেত বেজে ওঠে।

তিনি সতর্ক করে বলেন যে হামের উপস্থিতি সাধারণত ইঙ্গিত দেয় অন্যান্য টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগ যেমন ডিপথেরিয়া, হুপিং কাফ বা পোলিওর ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যদিও সেগুলো এখনো পূর্ণমাত্রার সতর্কসংকেত হিসেবে ধরা পড়ছে না। সংস্থার সাপ্তাহিক এপিডেমিওলজিক্যাল রেকর্ডে শুক্রবার প্রকাশিত হামের নির্মূল অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদনের আগেই সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে হুপিং কাফের সংক্রমণও বাড়ছে এবং এটি গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত বিশ হাজারের বেশি হুপিং কাফের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক এক কোটি দশ লাখ মানুষ হাম আক্রান্ত হয়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় আট লাখ বেশি। শুধু গত বছরেই উনষট্টি দেশ বড় আকারের হামের প্রাদুর্ভাবের কথা জানায় এবং ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

নির্মূল অবস্থা ঝুঁকিতে

চলমান প্রাদুর্ভাব বিভিন্ন দেশের অর্জিত হাম নির্মূল অবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। নির্মূল অবস্থা বলতে বোঝায় কোনো দেশ বা অঞ্চলে ওই ভাইরাস আর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়ায় না। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র স্মলপক্সই বৈশ্বিকভাবে পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একাশি দেশ হাম নির্মূল অবস্থা অর্জন করেছিল। কানাডা ১৯৯৮ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালে এই অবস্থায় পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞেরা জানান, কোনো দেশে টিকাকভারেজ যথেষ্ট উচ্চ হলে বাইরে থেকে আসা হাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শিশুর নিয়মিত টিকাগ্রহণে নিম্নগতি দেখা গেছে। ২০১৯ সালের পর দেশটির পচাত্তর শতাংশের বেশি কাউন্টির রেকর্ডে দেখা যায় এমএমআরসহ বিভিন্ন শৈশব টিকার গ্রহণ কমে গেছে।

কোনো দেশে একই ভাইরাসের ধারাবাহিক সংক্রমণ এক বছর ধরে চললে সেটাই নির্মূল অবস্থা হারানোর প্রধান সূচক। কানাডা ইতোমধ্যে সেই সীমা অতিক্রম করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও একই ঝুঁকিতে রয়েছে যদি প্রমাণিত হয় যে চলমান সংক্রমণের মূল উৎস জানুয়ারিতে টেক্সাসে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব।

টেক্সাসের প্রাথমিক রোগীদের নমুনা বিশ্লেষণে ডি৮ নামের এক ধরনের হাম জিনোটাইপ শনাক্ত হয়েছিল। এই একই ধরন সাউথ ক্যারোলিনার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবেও পাওয়া গেছে। সেখানকার জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে অতিরিক্ত জেনেটিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলে টেক্সাস, ইউটাহ ও অ্যারিজোনার প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্ক নিশ্চিত করা যাবে। বিভাগটি জানায় এসব পরীক্ষার ফল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সাউথ ক্যারোলিনায় এখন পর্যন্ত আটান্ন জন আক্রান্ত হয়েছে এবং সংক্রমণ বিশেষ করে স্পার্টানবার্গ কাউন্টিতে বেশি। অন্যদিকে অ্যারিজোনা এবং ইউটাহের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত হচ্ছে। অ্যারিজোনা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে এ সপ্তাহে সেখানে একশ তিপান্ন জন আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে, যার বেশির ভাগ মোহাভ কাউন্টিতে। ইউটাহ রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা একশ দুই জন এবং এর বাইরে সাল্ট লেক সিটির দিকেও নতুন রোগী বাড়ছে। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে ওয়াসাচ কাউন্টির একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছে।

২০২৫ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেয়াল্লিশটি অঙ্গরাজ্যে মোট এক হাজার সাতশো আটানব্বই জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং নিউ মেক্সিকোর এক প্রাপ্তবয়স্কসহ টেক্সাসের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed