নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র-ইলেক্টের অভিষেক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন কমিটিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অন্তর্ভুক্তিকে কমিউনিটি নেতারা ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। শ্রম, কমিউনিটি সংগঠন, জননিরাপত্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং শিক্ষাখাত থেকে নির্বাচিত মোট নয়জন বাংলাদেশি-আমেরিকানকে এই কমিটিগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে। তারা চার শতাধিক উপদেষ্টার বৃহৎ দলের অংশ হিসেবে আগত প্রশাসনকে নীতিমালা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করবেন।
কমিউনিটি নেতারা বলছেন যে এই অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাদের সক্রিয় সমর্থনের স্বীকৃতি বহন করে। নতুন প্রশাসনের সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়গুলোর সম্পর্ক জোরদার করার প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগসমূহকে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা যে সব কমিটিতে মনোনীত হয়েছেন, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের কমিউনিটির দাবি এবং প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষত শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী ন্যায়বিচার, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং শিক্ষার মতো বিষয়গুলোতে তারা সরাসরি নীতিগত আলোচনায় অংশ নেবেন। এর ফলে কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের কমিটি অনুযায়ী দায়িত্বের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
কমিটি অন ওয়ার্কার জাস্টিস
• সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক ল স্কুলের একজন অধ্যাপক
• ড্রাম বিটসের একজন সংগঠক
• এএসএএএল প্রতিনিধিত্বকারী একজন সদস্য
কমিটি অন কমিউনিটি অর্গানাইজিং
• হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারের একজন প্রতিনিধি
কমিটি অন কমিউনিটি সেফটি
• বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের একজন পদধারী কর্মকর্তা
কমিটি অন ইমিগ্র্যান্ট জাস্টিস
• সিএএএভের একজন কমিউনিটি সংগঠক
কমিটি অন স্মল বিজনেসেস অ্যান্ড এমডব্লিউবিইএস
• মুনা থেকে একজন প্রতিনিধি
• ভোটার অ্যাডভোকেসি সংস্থা থেকে একজন সদস্য
কমিটি অন ইয়ুথ অ্যান্ড এডুকেশন
• যুব ও শিক্ষাবিষয়ক একজন কমিউনিটি কর্মী
কমিউনিটি সংগঠনগুলো মনে করছে যে এই নির্বাচনসমূহ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সেই নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রগুলোতে উপস্থিত করেছে, যেগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে মজুরি সুরক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন এবং অভিবাসী সেবা সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাদের মতামত এখন আরও প্রভাবশালীভাবে প্রতিফলিত হতে পারবে।
এছাড়া দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখা থেকেও উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানি-আমেরিকান, ভারতীয়-আমেরিকান এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীরা বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রতিনিধির সংখ্যা দক্ষিণ এশীয় সদস্যদের অন্যতম বৃহৎ অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আগামী জানুয়ারিতে নতুন মেয়র-ইলেক্ট দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার আগে এই কমিটিগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রশাসনের প্রাথমিক কাঠামো ও নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের এই অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি করবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।



