মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে একাধিক আইনি জটিলতা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতারণা, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং আন্তর্জাতিক মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে আলোচিত এই প্রতিযোগিতা এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। থাইল্যান্ডে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মালিকদের একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মেক্সিকোয় পাচারচক্রে জড়িত থাকার তদন্ত শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতি মিস ইউনিভার্স প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে।
মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মালিকানা পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের হাতে ছিল, যা ২০২২ সালে কিনে নেয় থাইল্যান্ডের বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জে কে এন গ্লোবাল। সেই সময় প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন থাইল্যান্ডের এক আলোচিত উদ্যোক্তা। তাঁর নেতৃত্বেই মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। তবে মালিকানা পরিবর্তনের দুই বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি এখন বড় সংকটে।
থাইল্যান্ডে ওই উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জে কে এন গ্লোবালের এক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের আর্থিক বিরোধে জড়িত হন। গত সপ্তাহে ব্যাংককের আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। থাই গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে কোথায় রয়েছেন তা অজানা। এই ঘটনার আগে থেকেই জে কে এন গ্লোবাল বড় ধরনের আর্থিক সংকটে ছিল। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং ২০২৪ সালে থাইল্যান্ডের দেউলিয়া আদালতে ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করে। তাদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ২৬ লাখ ডলার।
এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুতে থাইল্যান্ডের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানায়, জে কে এন গ্লোবালের আর্থিক বিবৃতিতে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে। এর পর প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মেক্সিকোর এক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে করা একটি বড় আর্থিক চুক্তি বিনিয়োগকারীদের জানায়নি বলেও অভিযোগ আনা হয়। ওই চুক্তির মাধ্যমে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যদিও তিনি এখনো শেয়ারধারী হিসেবে রয়েছেন। চলতি মাসে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায়ও তাঁকে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টকে নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মেক্সিকোর প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তিনি মেক্সিকো এবং গুয়াতেমালার সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, মাদক এবং জ্বালানি পাচারের সঙ্গে জড়িত কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও প্রেসিডেন্টের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধে যুক্ত কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই কেলেঙ্কারি এবং কারচুপির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিযোগিতা শেষ হলেও সেই বিতর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করেছে সাম্প্রতিক এসব আইনি অভিযোগের কারণে। প্রতিযোগিতার ব্র্যান্ড ইমেজ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির করণীয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



