ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও সরকার ও রাজউকের সাবেক উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে বিশেষ জজ আদালত ৫। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের বিচারক রায় প্রদান করেন।
রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক মামলায় এক লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকার জরিমানা, আর অনাদায়ে প্রতিটি মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
একটি মামলায় তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা ঘোষণা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর একটি মামলায় তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে একইভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই তিন মামলায় মোট আসামি ৪৭ জন হলেও ব্যক্তি হিসেবে সংখ্যা ২২। আদালতে যুক্তিতর্ক শেষ হয় ২৩ নভেম্বর এবং নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ রায় ঘোষণা করা হয়। এসব মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় ১৭ নভেম্বর। গত ৩১ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
তিনটি মামলার মধ্যে প্রথমটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ১১ জন, দ্বিতীয়টিতে তাঁর সঙ্গে তাঁর ছেলে আরও ১৬ জন এবং তৃতীয়টিতে তাঁর সঙ্গে তাঁর মেয়ে আরও ১৭ জন আসামি হিসেবে ছিলেন। অন্য আসামিদের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজউকের সাবেক সদস্যরা রয়েছেন।
অপরদিকে, সকল মামলায় একমাত্র খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
তিন মামলার মধ্যে রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) ছিলেন একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি। তাঁকে প্রতিটি মামলায় এক বছর করে মোট তিন বছরের কারাদণ্ড এবং মোট ১৫ হাজার টাকার জরিমানা দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিন মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই দণ্ড দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং একই পদে দায়িত্ব পালনকারী আরও একজন অতিরিক্ত সচিবকে। তাঁদের প্রত্যেকের অনাদায়ে এক বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানকে তিন মামলায় ৫ বছর করে মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিবকে মোট ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রাজউকের বিভিন্ন সদস্য ও পরিচালক পর্যায়ের আরও অনেক কর্মকর্তা তিন মামলায় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের দণ্ডসাজা ১ বছর থেকে ৯ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে, আর জরিমানার পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ছয়টি মামলা দায়ের করেছিল। আজ ঘোষিত রায় সেই ছয়টির মধ্যে তিনটির বিচারিক নিষ্পত্তি।



