বহুল আলোচিত একটি রাজনৈতিক দলের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে পুরনো অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক নতুন করে জনমতকে নাড়া দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অতীতে স্কুলজীবনে যে মন্তব্যগুলো করেছেন বলে সহপাঠীরা দাবি করছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে। বিশেষ করে কেউ যদি ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য অবস্থানে থাকেন, তবে অতীত আচরণ নিয়ে জনসাধারণের জানার অধিকার আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
সত্তরের শেষ ভাগ এবং আশির দশকের শুরুতে একটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে Farage এর সহপাঠীরা যে অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন, তা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। একজন সহপাঠী Ettedgui জানিয়েছেন যে Farage প্রায়ই উস্কানিমূলক সুরে এসে বলতেন যে হিটলার ঠিক ছিলেন অথবা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন। তিনি আরও জানান যে Farage অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করতেন এবং তাদের বাড়ি চলে যেতে বলতেন।
কলেজের Combined Cadet Force এ থাকা আরও কয়েকজনের স্মৃতিতে রয়ে গেছে Farage এর গণবিরোধী আচরণ। France জানান যে Farage প্রায়ই একটি বিদ্বেষপূর্ণ গান গাইতেন এবং নাৎসি স্যালুট দিতেন। France এর ভাষায় এটি ছিল অভ্যাসগত এবং ঘন ঘন ঘটত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সময়কার আরেক শিক্ষার্থী Lihou একই ধরনের মন্তব্যের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে Farage প্রকাশ্যে এমন সব কথা বলতেন যা বর্ণবিদ্বেষী এবং সংখ্যালঘুবিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন।
Field নামে আরেক সহপাঠী জানান যে তিনি দেখেছেন Farage কখনও কখনও স্কুলের রোল তালিকা পুড়িয়ে ফেলতেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে তালিকায় নাকি নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছিল। এসব অভিযোগ পূর্বেও কিছু গবেষণা ও জীবনীতে উঠে এসেছিল, যেখানে Farage এর তৎকালীন আচরণ নিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতর্কের কথাও রয়েছে। অতীতে Farage স্বীকার করেছিলেন যে তিনি কিছু হাস্যকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছিলেন, যদিও সেগুলোকে তিনি বর্ণবাদ হিসেবে মানতে চাননি।
তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধান ও সাক্ষ্য এসব ব্যাখ্যাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমাদের প্রতিবেদনে দেখা যায় যে Farage এর কিশোর বয়সে করা মন্তব্যগুলো শুধুমাত্র দায়িত্বহীন ছিল না, বরং সরাসরি বর্ণবাদী ছিল। যদিও সব সহপাঠী এসব ঘটনা মনে করতে পারেননি এবং কেউ কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তবে কারও দাবি নয় যে Farage বর্তমানে কিশোর বয়সের সেই মতাদর্শ ধরে রেখেছেন। তবুও কোনো ব্যক্তির অতীত যখন চরমপন্থী আচরণের সাথে যুক্ত থাকে, তখন তা ভবিষ্যৎ জননেতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
এদিকে Farage সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনি প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন যে তিনি কখনও কোনো বর্ণবাদী বা ইহুদিবিরোধী মন্তব্য করেননি। সংসদেও তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর মুখপাত্র বলেছেন যে এটি এক ব্যক্তির কথা আরেক ব্যক্তির কথার বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা।
কিন্তু বিষয়টি এতটা সরল নয়। এক ডজনের বেশি ব্যক্তির সাক্ষ্য এবং অভিজ্ঞতা এসব অস্বীকারকে কঠিন করে তুলেছে। প্রশ্ন দাঁড়ায় জনগণ কাকে বিশ্বাস করবে। যেহেতু নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সততা ও অতীত আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই Farage এর উচিত আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা।
Reform UK এর উত্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের যুগ বদলানো নেতাদের ক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, বক্তব্য এবং অতীত আচরণ জনস্বার্থেই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। গণমাধ্যমের দায়িত্ব সঠিক প্রশ্ন তুলে ধরা এবং নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির দায়িত্ব যথাযথ জবাব দেওয়া। এই বিতর্ক তারই ধারাবাহিকতা।



