২০২৫ সালটা যেন বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি দলের জন্য ছিল এক পরীক্ষাগার। পুরো বছর জুড়েই ছিল পরীক্ষা–নিরীক্ষা, নতুন কম্বিনেশন, আর ঝড় তোলা ব্যাটিং। কিন্তু বছরের শেষে চিত্রটা স্পষ্ট—লক্ষ্য এখন শুধু বিশ্বকাপ।
বিপিএল ভালো করলেই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে অধিনায়ক অবশ্য দরজা বন্ধ করেননি। তবে তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের জন্য দল প্রস্তুত। কারণ, ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করণে এই বছরটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল বছর।
এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই আর—বিপিএলের পরই ফেব্রুয়ারিতে বড় মঞ্চের লড়াই। তার আগে দেখে নেওয়া যাক, ২০২৫ সালে টি–টোয়েন্টিতে কেমন খেলল বাংলাদেশ।
ছক্কার ঝড়: রেকর্ডবুকই বদলে দিল বাংলাদেশ
এক পঞ্জিকাবর্ষে একশর বেশি ছক্কা—একটা সময় ছিল অবাক করা সংখ্যা। ২০২৩ সালে ব্যাটাররা মেরেছিলেন ১২২ ছক্কা।
কিন্তু ২০২৫ সালে বাংলাদেশ মেরেছে রেকর্ড ২০৬ ছক্কা!
এতে শুধু দর্শনীয় ক্রিকেটই হয়নি, ব্যাটিং স্ট্রাইক রেটও ছুঁয়েছে নতুন মাত্রা। ১২৫.৯৭—যা বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ওপেনিংয়ে উজ্জ্বলতা: তানজিদের বছর
ডেবিউয়ের এক বছরেই পুরো ব্যাটিং অর্ডারে নতুন প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন ওপেনার। ২৭ ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৪১ ছক্কা—যা এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড।
এতেই শেষ নয়—স্ট্রাইক রেট ১৩৫+ রেখে ৭৭৫ রান করে তিনি হয়ে উঠেছেন বছরের সেরা রান–সংগ্রাহকও। টপ অর্ডারে তাঁর ধারে ছোঁয়া পাওয়া যেকোনো দলের জন্যই কঠিন।
মিডল–অর্ডার এখনো চিন্তার কারণ
টপ অর্ডারের ধারাবাহিকতা থাকলেও মিডল–অর্ডারই রয়ে গেছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। বিভিন্ন কম্বিনেশন চেষ্টা করা হলেও কেউই এখনো পুরোপুরি আস্থা দিতে পারেননি।
মাঝে মাঝে ইনিংস খেললেও ধারাবাহিকভাবে স্ট্রাইক রেট ধরে রাখা হয়নি পাকিস্তান বা ইংল্যান্ডের মাপের দলের মতো। তাই বিশ্বকাপে মাঝের ওভারগুলোই হয়ে উঠতে পারে বড় পরীক্ষা।
বোলিং ইউনিট: এক কথায় অসাধারণ
বাংলাদেশের আসল শক্তি এবারও ছিল বোলিং ইউনিট।
স্পিন
লেগ স্পিনার ছিলেন পুরো বছরের চমক—২৫ ম্যাচে ৩৩ উইকেট!
সঙ্গে নাসুম–মেহেদীর ধারাবাহিক সাপোর্টে স্পিন আক্রমণ ছিল সত্যিই ভয়ংকর।
পেস
পেস আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন কাটার–মাস্টার।
কৃপণ বোলিং, নিয়মিত উইকেট—২৬ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন পুরো বছরের অন্যতম সেরা।
তাসকিন–শরীফুল–তানজিমরাও দিয়েছেন সমান জোরালো সাপোর্ট।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের অবস্থা—আত্মবিশ্বাসী, তবে সতর্ক
ব্যাটিং–বোলিং দু’দিকেই উন্নতি নজরকাড়া। কিন্তু মিডল–অর্ডার ঠিক না হলে বিশ্বকাপের মতো আসরে চাপ বাড়তেই পারে।
তবে বছরের সার্বিক পারফরম্যান্স বলছে—বাংলাদেশ প্রস্তুত, আরও এক ধাপ ওপরে ওঠার জন্য।



