Sunday, November 30, 2025
spot_img
Homeএডুকেশনহঠাৎ স্থগিতের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

হঠাৎ স্থগিতের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবিত নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগামী বছর থেকে গবেষণা অংশীদারিত্ব কর্মসূচির তহবিল হারাতে পারে। বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতির ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠিত এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে একাডেমিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ নথি এবং স্প্রেডশিট ফাঁস হওয়ার পর জানা যায় যে পররাষ্ট্র দপ্তর তার কূটনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প ডিপ্লোম্যাসি ল্যাব থেকে মোট ৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির বিভিন্ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি থেকে, যদিও তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয় এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

প্রস্তাবিত নতুন তালিকায় দেখা যাচ্ছে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান বাদ গেলে ১০টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করা হবে, ফলে গবেষণা অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল স্থগিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার মতো শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আমেরিকান ইউনিভার্সিটি, জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ক্যাম্পাসও রয়েছে ওই তালিকায়।

অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচিতে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইটি, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন। এদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এর আগেই প্রশাসনের অ্যান্টি ডিইআই নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গত জুলাইয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ফেডারেল সরকারকে পরিশোধ করতে সম্মত হয় এবং প্রতিশ্রুতি দেয় যে ভবিষ্যতে নিয়োগে জাতি, লিঙ্গ বা জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে না। একই ধরনের সমালোচনার মুখে ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার প্রধান গত জুনে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, যিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ডিপ্লোম্যাসি ল্যাব সমন্বয় করেন, জানান যে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি। তিনি বলেন যে প্রকল্পটির জন্য তারা পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে কোনো সরাসরি অর্থায়ন না পেলেও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অংশ নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এক বিবৃতিতে জানায় যে প্রতিষ্ঠানটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী বৈষম্যবিরোধী সব নিয়ম মেনে চলে এবং কোনো ধরনের অবৈধ ডিইআই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত নয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে দুই শিক্ষার্থীর জন্য ভ্রমণ-সংক্রান্ত অর্থায়ন পাওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করে।

সেন্ট ক্যাথরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জানান যে তারা ২০২০ সাল থেকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত এবং চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো ডিপ্লোম্যাসি ল্যাব কার্যক্রম স্থগিতের নোটিশ পেয়েছেন, যেখানে বলা হয় বাজেট সংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও জানান যে এখনো ভবিষ্যতে তাদের বাদ দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

১৭ নভেম্বরের মেমোতে বলা হয়েছে যে পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংযোগ ব্যুরোর একটি বিভাগ নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যেখানে শুধুমাত্র মেধা-ভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ডিইআই ভিত্তিক নিয়োগনীতি থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাদ দেওয়া হবে, তা প্রকাশ্যে বা গোপনে পরিচালিত হোক।

পররাষ্ট্র দপ্তর মেমোটির অস্তিত্ব অস্বীকার করেনি। বিভাগের এক মুখপাত্র জানান যে বর্তমান প্রশাসন ডিইআই বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে এবং সব কর্মসূচি পর্যালোচনা করা হচ্ছে যাতে সেগুলো প্রেসিডেন্টের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments