অ্যাশেজের ব্রিসবেন টেস্টে তৃতীয় দিনের পুরো চিত্রটাই নিয়ন্ত্রণ করেছে অস্ট্রেলিয়ার এক অলরাউন্ড পারফর্মার। বল হাতে ছয় উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৭৭ রানের বিশাল অবদান রেখে এই পেসারের সামনে যেন কোনো জবাবই খুঁজে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। তার অলরাউন্ড প্রদর্শনীতেই অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫১১ রানে অলআউট হয়ে নিল ১৭৭ রানের শক্তিশালী লিড।
আজ তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে নিজেদের প্রথম ইনিংসটি শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। দুই সেশনে মিলিয়ে স্টার্কের মাত্র ১৪১ বলে ৭৭ রানের ইনিংসটি দলের সংগ্রহকে টেনে তোলে অনেকটাই। যদিও লিড বড়, তবুও ইতিহাসের ভরসায় ইংল্যান্ড আশায় বুক বেঁধে আছে। কারণ, আরও বড় ব্যবধান ঘুচিয়েও অ্যাশেজে তারা জিতেছে দুইবার। ঘটনাগুলো অবশ্য একেবারেই পুরোনো। যথাক্রমে ১৮৯৪ এবং ১৯৮১ সালে।
সেশনের হিসেবে দিনটি ভাগ করলে দ্বিতীয় সেশনে অস্ট্রেলিয়া ১৮.৩ ওভার ব্যাট করে ৬১ রান তোলে দুই উইকেটে। এরপর ইংল্যান্ড নামলে প্রথম ছয় ওভারে তারা বিনা উইকেটে তোলে ৪৫ রান। এখনো ১৩২ রানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ডকে সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে বিশেষ আলো কাড়ে নবম উইকেট জুটির লড়াই। স্টার্ক ও বোল্যান্ড মিলে ২৭.২ ওভারের জুটি গড়েন। ব্রাইডন কার্সের বলে স্টার্ক আউট হওয়ার পর ভাঙে এই জুটি। সিরিজে এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী জুটি। বোল্যান্ড ৭২ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ব্যাটসম্যান ডগেট যোগ করেন ১৩ রান।
দলটি ৫০০ রানের বেশি তুললেও আশ্চর্যজনকভাবে কেউ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। টেস্ট ইতিহাসে সেঞ্চুরি ছাড়া ৫০০ রানের ওপরে ইনিংস গড়ার ঘটনা এর আগে ঘটেছে মাত্র চারবার। সেঞ্চুরিহীন ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার, যারা ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এমনকি শতরানের কোনো জুটিও আজ গড়তে পারেনি অস্ট্রেলিয়া, যা টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর শতরানের জুটি ছাড়া।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে পাঁচ ব্যাটসম্যান অর্ধশতক পূর্ণ করেন। স্টার্কের ৭৭ রানের আগে ফিফটি তুলে নেন ওয়েদারল্যাড ৭২, লাবুশেন ৬৫, স্মিথ ৬১ এবং ক্যারি ৬৩ রান করে। পাঁচজন ব্যাটসম্যানের ৬০ থেকে ৮০ রানের মধ্যে আউট হওয়ার বিরল ঘটনাটি টেস্ট ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটল। আরও একটি অনন্য ঘটনার জন্ম হয় যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার ১১ জন ব্যাটসম্যানের কেউই এক অঙ্কের ঘরে ফেরেননি। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে এটি তৃতীয়বার।
স্টার্ক আজ তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি করেন এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি তার পঞ্চম অর্ধশতক। একই সঙ্গে অর্জন করেন আরেকটি বড় মাইলফলক। ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্রিকেটার বল হাতে পাঁচ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ফিফটি করলেন। আগেরজন ছিলেন মিচেল জনসন, ঘটনাটি ঘটেছিল এই ব্রিসবেনেই।
ব্যাটিং পজিশনের দিক থেকেও স্টার্ক আজ ছুঁয়ে ফেলেছেন আরেকটি রেকর্ড। টেস্টে ৯ নম্বর পজিশনে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তিনি। তার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৪০৮ রানে, যা ছাড়িয়ে গেছে স্টুয়ার্ট ব্রডের ১৩৮৯ রানকে।
দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৭৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৭৮। আজকের দৃশ্যপট সেই ইনিংসকেই আরও কঠিন করে দিয়েছে ইংল্যান্ডের জন্য।



